
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ্ আলম বলেছেন, আল্লাহর রহমতে আপনেরা চিন্তা করবেন না। আমি শাহ আলম নিবার্চন করলে নমিনেশন পাওয়ার ক্ষমতা রাখি। ইনশাল্লাহ আমি নির্বাচন করব। কারন আমি দেখতাছি শুনছি কি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ফতুল্লা থানা বিএনপি অঙ্গ সংগঠন নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এক বৈঠকে বসে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় শাহ্ আলম আরও বলেন, এই যে ১৭ বছরে আপনারা আমাকে দেখেছেন আমিও আপনাদেরকে দেখেছি আপনারা আমাকে চিনেন। আমি আপনাদেরকে ছেড়ে যায়নি গত আওয়ামী লীগের আমলে ২৪ টা মামলা খেয়েছি।
এই ২৪ টা মামলার সবগুলার ধারা অনেক খারাপ। আমার চেয়েও অনেকে আরও বেশি মামলা খেয়েছে যে মামলা খেয়েছে সে বুঝে আমি বলব আল্লাহ তাআলার রহমত হয়েছে বিদায় ফ্যাসিস্ট সরকার বিদায় হয়েছে।
আল্লাহ মানুষকে সংশোধন হওয়ার সুযোগ দেন। যখন মানুষের অত্যাচার জুলুম বেড়ে যায় সংশোধন না হয় আল্লাহর তরফ থেকে সুনামির মত ধ্বংস এসে যায়। শেখ হাসিনা নিজেও কল্পনা করে নাই হেলিকপ্টার দিয়ে পালিয়ে যাবেন।
তিনি বলেন, আমি যখন জেলার রাজনীতি করেছি জেলা কমিটিতে ফতুল্লার ৩৬ জনকে নিয়েছি। মানুষ বলেছে এটা জেলার কমিটি না ফতুল্লার কমিটি।
আমি ১০০ জনের কমিটি বানিয়েছি দেড়শ জনের কমিটি বানিয়েছি ২০০ জনের কমিটি বানিয়েছে সবাইকে প্রোভাইড করার জন্য। আমি কোনদিন কখনো বিবেচনা করি নাই কে কার লোক। আমি কোন নেতার বিরুদ্ধে কথা বলি নাই।
আপনার যদি আমাকে নেতা মনে করেন যে কোন সিদ্ধান্ত এমন হওয়া উচিত যাতে মানুষ সমালোচনা না করে।
একটা কথা মনে রাখবেন মাফ করে দিলাম সামনে নির্বাচন। নির্বাচনের কথার প্রশ্নে আরেকটা কথা বলি আল্লাহর রহমতে আল্লাহর রহমতে আপনারা চিন্তা কইরেন না সামনের নমিনেশন আমি পাব।
কথাটা হলো নির্বাচন আমি করবো। অনেকে আমাকে ফোন করেছে দিক নির্দেশনা দেন আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করব আমি বলেছি চুপ থাকো।
কারণ আমি জানি শুনে দেখতেছি বুঝতেছি এখন যদি আমি বলি রিপন মিছিল নিয়ে নেমে যাও ভাঙচুর কর ওতো মামলা খাবে গ্রেফতার হবে। আমি জানি কি হবে আমি যদি উসকাই দেই সব নেতাকর্মী নেমে ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে এতে ক্ষতি হবে দলের ক্ষতি হবে নেতাকর্মীদের। আমার কোন ক্ষতি হবে না ক্ষতি তো হবে তোমাদের।
আমি তো সেই ক্ষতি হতে দেই নাই কখনোই দেইনি। বরং নেতারা আমার উপর অসন্তুষ্ট হয়েছে। আমি চাইনা তারা কেউ বিপদে পড়ুক আমি সবাইকে আগলে রাখার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, একটা কথা মনে রাখবেন গত ৫ তারিখের পর বহু লোক আমার কাছে এসেছে আমরা ২০ হাজার লোক পঞ্চাশ হাজার লোক এক হবো আসেন কর্মী সভা করি। কিন্তু আমি চাইনি আমার পিছনে সন্ত্রাসী দাঁড়িয়ে ছবি তুলবে সেই ছবিতে পোস্টার করবে।
এতদিন গডফাদার ছিল শামীম সাহেব এখন শাহ আলম আমি ভাই বদনামের ভাগীদার হতে চাই না। রাজনীতি করতে আসছি দেশ জাতি জনগণের উন্নয়নের জন্য সুনামের সাথে। কেউ যাতে বলতে না পারে শাহ আলম একই পথে চলছেন।
এড. তৈমুর আলম আলম, কাজি মনির ও মামুন মাহমুদকে নিয়ে বলেন, আমি কখনো পদের লোভী নই। জেলার প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারি এগুলো আমার জন্য কোন বিষয়ই না। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই তৈমুর আলমকে, কাজি মনিরকে জেলার প্রেসিডেন্ট আমি বানিয়েছি। মামুন মাহমুদকে আমি জেলার সেক্রেটারি বানিয়েছি।
এগুলা আমার কাছে কোন বিষয় না আমি এগুলো হতে চাই না। আমি সেন্ট্রাল কমিটির মেম্বার আছি আমি সেখানে আছি আমি সেখানে থাকবো।
নির্বাচন ও ভোটের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবাইকে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। তবে আমি কোন সন্ত্রাসীকে নিয়ে রাজনীতি করবো না। কারণ যাদেরকে নিয়ে হাঁটলে দশটা ভোট কমবে দরকার নেই কারণ ভোট দিবে জনগণ। জনগণকে পাশে নিয়ে থাকবো সামাজিক লোক চাই যাদের কথায় দশটা ভোট আসবে।
তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই প্রথম যেদিন নির্বাচন করেছিলাম ২০০৯ সালে সেই দিন যা বলেছিলাম আজকেও তাই বলবো আমার কাছে সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই আমি ঝুট ব্যবসা করতে আসি নাই, আমি দখল সাইনবোর্ড লাগাইতে আসি নাই, আমি সুনামের সাথে থাকবো ভাই আমার পার্সেন্টেজ খাওয়ার দরকার নেই।
আমার নেতাকর্মীরা আছে যারা দলকে ভালোবাসে দেশকে ভালোবাসে আমি তাদের নিয়েই থাকবো। আরেকটা কথা বলি তোমাদের কারো পথ নাই পদের দরকার নাই সবকিছুই সময় কথা বলবে।
আমি যদি এমপি হই ইনশাল্লাহ সকল থেকে নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করব। আমার পিছনে থেকে সভাপতি সেক্রেটারি হয়ে যাবা এটা হবে না এটা আমি করবো না। একটা কথা বলি আমরা সবাই একসঙ্গে হাটবো সুখে দুখে সব সময় একসাথে থাকবো।
এসময় শাহ্ আলম নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমার কাছে আসতে হলে ভায়ার কোন দরকার নেই আমার বাড়ির সামনে গেলে গেটে ঢুকতে দেবে না এমন ভাবার কোন দরকার নেই। আমি কখনো ফোন নাম্বার দেখে ফোন ধরি না এত ফোন আসে আমি এটা কার ফোন ভাবি না। আমার ফোন সবসময় ওপেন সবার কাছে আমার নাম্বার আছে যে যার যখন প্রয়োজন তখন ফোন করবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।
তিনি বলেন, গত ৫ আগষ্টের পর দেশব্যাপী বিএনপি'র যা হয়েছে সেখান থেকে আমাদের ফিরে আসতে হবে আমাদের সুনামকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। মানুষের মধ্যে আস্তা ফিরিয়ে আনতে হবে বিএনপি নেতাকর্মীরা নয় বিএনপির মধ্যে কিছু পদধারী বিএনপির নামধারী লোকজন অপকর্ম করেছে।
যার জন্য তারেক রহমান প্রত্যেকটা বক্তব্য বলে আসছেন তবুও তারা শুনছে না। কেন শুনছো না তারা জানে দলে তাদের অবস্থান কি। আজকে হয়ত তারা দলে পদে থাকতে পারে তাদের এপদ থাকবেনা। যার জন্য তারা আখের গোছানোতে ব্যাস্ত।
নির্বাচনের কমিটি প্রসঙ্গে শাহ্ আলম নেতাকর্মীদের বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবো আমরা খুব শিগগিরই কাজে নামব সেন্টার কমিটি করব।
প্রতিটা সেন্টার কমিটিতে সেন্টারের আশেপাশে মূল দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সামাজিক নেতৃবৃন্দ বিএনপি সমর্থন করে বিএনপির কমিটিতে নাই সমাজে তাদের অবস্থান আছে তাদেরকে নিয়েই কমিটি করবো৷ ওই কমিটি দিয়েই আমরা রাজনীতি শুরু করবো।