1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন

মাদক সম্রাট টাইগার ফারুকের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলা

নারায়ণগঞ্জ টাইমস
  • সোমবার, ৩ মে, ২০২১
  • ২২৩
চাঁদাবাজ টাইগার ফারুক কারাগারে

সিদ্ধিরগঞ্জের চিহ্নিত মাদক সম্রাট কথিত যুবলীগ কর্মী টাইগার ফারুক ওরফে চিকনা ফারুকের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলা দায়ের হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়।

সিদ্ধিরগঞ্জে হিরাঝিল এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসায়ী মহসিন হোসেন রানা এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৫, তারিখ- ৩ মে ২০২১ইং।

ইন্টারনেট ব্যবসায়ী মহসিন হোসেন রানা জানান, টাইগার ফারুক ওরফে চিকনা ফারুক বেশ কিছুদিন থেকে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে।

গত ১৫ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে তার অফিসে এসে টাইগার ফারুক, বাবু ও জসিম তার কাছে এসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান পিপিএম-বার টাইগার ফারুকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর বিষয়টি পক্রিয়াধীন রয়েছে।

ওসি মশিউর রহমান পিপিএম-বার আরো জানান, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্যান্য মামলা ও অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গতকাল রোববার সকালে মিজমিজি টিসি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে হাজতে রাখা হয়।

তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আটক টাইগার ফারুক সাবেক আদমজী জুট মিলের শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি আবু সাইদের বড় ছেলে।

আদালতে নেয়া হচ্ছে ভিডিও :https://fb.watch/5fAz_3gDLy/

এদিকে, টাইগার ফারুককে ঝাড়িয়ে আনতে থানায় ছুটে যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাজু ও লোহা চোর মোটা কবির। এবং বিশেষ পেশার কয়েকজন। তারা দিনভর নানাভাবে দেনদরবার চালায়।

এক পর্যায়ে বিশেষ পেশার দুইজন টাইগার ফারুকের সাথে থানা হাজতে দেখা করে এবং পানি ও খাবার পৌছে দেয় তারা। এক পর্যায়ে এই চারজন নিরাশ হয়ে ফিরে আসে থানা থেকে।

পরে ইফতারের পর আবার থানায় যায় চাঁদাবাজ রাজু, পরিহবহন চাঁদাবাজ লেতুর সামাদ বেপারী, লোহা চোর কবির ও বিশেষ একজন। গভির রাত পর্যন্ত তারা মাদক সম্রাট টাইগার ফারুকের জন্য তদবির চালাচ্ছিল।

ওদিকে টাইগার ফারুকের আটকের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। অনেকেই তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে। ইফতারের পর ১নং ওয়ার্ডে মিস্টি বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।

বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ ঝাড়ু নিয়ে টাইগার ফারুকের শাস্তি দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি ১নং ওয়ার্ডে বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিন করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, টাইগার ফারুকের একটি বিশাল মাদক সিন্ডিকেট রয়েছে। সে ১নং ওয়ার্ডে যুবলীগের অফিস বানিয়ে নিজেকে যুবলীগ কর্মী পরিচয় দিয়ে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে।

ওই কার্যালয়টি রাতের বেলা মুলত মাদক বিক্রি ও সেবনের কাজে ব্যবহার হয়। আর পুলিশী ঝামেলা হলে মাদক তার সহযোগি মাদক বিক্রেতারা সেখানে আশ্রয় নেয়।

মজার বিষয় যুবলীগের কথিত কার্যালয় হলেও কার্যালয়ের দরজায় লেখা রয়েছে ‘আকাশ এন্টারপ্রাইজ ও এ কে এন্টারপ্রাইজ। এই কার্যালয় থেকে টাইগার ফারুক সমস্ত অপকর্ম পরিচালনা করে আসছে।

টাইগার ফারুক তার বাহিনী মাদক, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ এমন কোন অপকর্ম নেই যা করে না।

এছাড়াও টাইগার ফারুক গড়ে তুলেছে বিশাল এক মাদকের সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাদক নিয়ে এসে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, নরসিংদীসহ এর আশপাশের এলাকায় সরবারহ করে আসছে।

টাইগার ফারুকের সিন্ডিকেটের বেশ কয়েকজন মাদকসহ গ্রেপ্তার হলেও টাইগার ফারুক ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। শেষ পর্যন্ত আটক হওয়ায় এলাকাবাসী আইনশৃংখলাবাহিনীকে সাধুবাদ জানায়।

টাইগার ফারুকের পালিত সন্ত্রাসীরা এলাকায় কোনো মুরুব্বি মানে না। অনেক বয়স্ক লোক তাদের অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ করে লাঞ্ছিত হয়েছেন।

এলাকাবাসীর দাবি টাইগার ফারুকের বিরুদ্ধে এমন শাস্তির ব্যবস্থা করা হউক যা দেখে আর কেউ যেনো এমন অপকর্ম ও অপরাধ সাম্রাজ্য ও বাহিনী গড়ে না তুলে।

এছাড়াও এলাকাবাসী ফারুকের আরো যেসব সহযোগী রয়েছে কিশোরগ্যাং লিডার, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী তাদের গ্রেপ্তারের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. জাহেদুল আলম পিপিএম ও র‌্যাব-১১ এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উল্লেখ, এর আগে টাইগার ফারুক বাহিনীর ১০ সদস্য আইশৃংখলা বাহিনীর পৃথক পৃথক অভিযানে বিশাল পরিমান মাদকের চালান নিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলো।

কে এই টাইগার ফারুক

এলাকাবাসীর তথ্যমতে, মো: ফারুক ওরফে টাইগার ফারুক পিতা-আবু সাইদ। বর্তমান ঠিকানা-মিজমিজি পুর্বপাড়া পাগলাবাড়ি এলাকা। তার বাবা আবু সাঈদ আদমজী জুট মিলস জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সহসভাপতি ছিল।

চাচা আমির হোসেন ওরফে শুটার আমির ওরফে বন্দুক আমির জাতীয়তাবী শ্রমিক দলের প্রচার সম্পাদক ছিল। বর্তমানে তার ছোট ভাই জুয়েল রানা নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি।

তার বিরুদ্ধে হেফাজতের দুটি মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। আরেক ভাই জসিম বিএনপিকর্মী। ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের ধানের শীষের নির্বাচন করে টাইগার ফারুক ও তার বাপ চাচারা। আদমজী জুট মিলস চলাকালীন তৎকালীন নিউ কলোনী ১নং নতুন গেইটে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী শামীম ওসমানের নৌকার প্রতীক ভেঙ্গে ফেলে টাইগার ফারুক। এবং ওই নির্বাচনে শামীম ওসমান পরাজিত হওয়ার পর আগুন দিয়ে নৌকার ক্যাম্প জ্বালিয়ে দেয় ফারুক।

বিএনপি সরকারের পতনের পর পিঠ বাঁচাতে কৌশলে আওয়ামীলীগের শিবিরে মিশে যায় টাইগার ফারুক। এবং নিজেকে কখনো যুবলীগ নেতা আবার কখনো যুবলীগ কর্মী পরিচয় দেয়। এই সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ফারুক মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তোলে।

আদমজী ইপিজেডে ব্যবসার করার অজুহাতে ভেতরে ভেতরে চলে তার মাদক ব্যবসা। যার কারণে রাতরাতি সে অর্ধকোটি টাকা মূল্যের জমি কিনে সেখানে বহুতল বিল্ডিং বানিয়েছে।

টাইগার ফারুক সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি টিসি রোডস্থ বৈশাখী কুঞ্জের বিপরীত দিকে বিএনপির হযরত আলীর দোতলা বিল্ডিংয়ের  নিচ তলায় যুবলীগের কথিত কার্যালয় বানায়।

মজার বিষয় কার্যালয়ের দরজায় লেখা আকাশ এন্টারপ্রাইজ ও এ কে এন্টারপ্রাইজ। ভেতর রাতভর চলে মাদক কেনা-বেচা ও সেবন।

বর্তমানে ফারুক হত্যা মামলার আসামী। এক পযায়ে চলতি বছরের গত ১০ মার্চ কমিল্লা ডিবির হাতে ফেনসিডলসহ গ্রেপ্তার হয় এক সমস্য আলমগীর।

২ এপ্রিল রাতে ঢাকার পল্টনে র‌্যাব-৩ এর হাতে গ্রেপ্তার হয় টাইগার ফারুকের ক্যাশিয়ার মিলন ৩ সহযোগিসহ গ্রেপ্তার হয়।

তাদের কাছ থেকে ১৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ১৬ এপ্রিল বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড থেকে টাইগার ফারুকের অন্যতম সহযোগি রাকিবসহ ৫ জনকে ১৮ কেজি গাঁজা ও ৯৬ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৩।

ফারুকের এই সহযোগিরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফারুকের নাম আলোচনায় চলে আসে মাদক সম্রাট হিসেবে।

মেঝ ভাই মো: জসিম ছিনতাইয়ের সময় হাতে নাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি হয়। পরে জামিনে বেরিয়ে আসে। এছাড়াও সে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামী। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি ও ছিনতাইকারী।

টাইগার ফারুকের আরেক ছোট ভাই, জুয়েল রানা, নারায়ণগঞ্জ মহা নগর ছাত্রদলের সহ সভাপতি।

তার বিরুদ্ধে ২৫ মার্চে হেফাজতের হরতালের দিন নাশকতার ঘটনায় দায়ের করা মামলার মধ্যে একটি মামলায় প্রধান আসামী ও একটি মামলায় ১৯ নাম্বার আসামী। সেও মাদক বিক্রেতা।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart