1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন

সেই স্কুলটি ভেঙ্গে দিলো চাষাড়া স্টেশন মাস্টার

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪০৯

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া রেলওয়ে স্টেশনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষাদান কার্যক্রম চালাতো শুভ চন্দ্র দে নামে এক স্বপ্নবাজ তরুণ। স্টেশনেই একটি টংয়ের দোকানে রাখা হতো ব্ল্যাকবোর্ড, চক, পেন্সিল, খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সেই টংয়ের দোকানটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। ফেলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা উপকরণগুলো। কাজটি করেছেন চাষাঢ়া স্টেশনের মাস্টার খাঁজা মো. সুজন। তবে স্টেশনে অন্যান্য অবৈধ টংয়ের দোকানগুলো ছিল অক্ষত। কিন্তু স্কুলটির উপর স্টেশন মাস্টারের এমন আচরণ ও আক্রোশে হতবাক হয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাষাঢ়া স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের উচু প্ল্যাটফর্মের পাশেই উল্টে পড়ে আছে শুভর স্কুলের ব্যানার সম্বলিত টংয়ের দোকানটি। তার পাশেই পড়ে আছে কয়েকটি খাতা, কলম ও একটি ব্ল্যাকবোর্ড। পাশেই দাড়িয়ে আছেন শুভ। তার উদাস দৃষ্টি যেন বলছে, টংয়ের দোকানটি নয় উল্টে আছে তার স্বপ্ন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব নামে এক রিকশাচালক বলেন, ‘স্টেশনের লোকজন আইসা জিজ্ঞাস করছে, এইটা কী? বলছি এইটা স্কুল, এইখানে পোলাপান পড়ায়। তখন একজন বললো, প্ল্যাটফর্মে আবার কিসের স্কুল! এই বলেই সবকিছু ফেলে দেয়।’
কান্নাজড়িত কন্ঠে শুভ বলেন, এই টংয়ের দোকানে সিঙ্গারা বানাইয়া আমি বিক্রি করি। সেই টাকা দিয়া স্কুলটা চালাই। পড়াশোনার জন্য চক, পেন্সিল, খাতা, কলম, ব্ল্যাকবোর্ড সবই দোকানে থাকে। সব ফেলে দিছে স্টেশন মাস্টার। এইখানে যে স্কুলের কার্যক্রম চলে তা সবাই জানে। স্টেশন মাস্টার যদি অবৈধ উচ্ছেদ করতে চাইতো তাহলে আমারে জানাইলে আমি টং সরাইয়া নিতাম। কিন্তু সেটা করে নাই। এই স্টেশনে আরও কয়েকটি টংয়ের দোকান আছে। সবগুলো দোকান ঠিকঠাক আছে। কিন্তু আমার স্কুলের দোকানটা ফেলে দেওয়া হইছে। আমি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে এর বিচার চাই।’
শুভ চন্দ্র জানান, চাষাঢ়ার এই স্টেশন চত্ত্বরে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রি হয়। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের পর থেকে এর মাত্রা বেড়ে যায়। তার গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনেও বসতো মাদকের আড্ডা। কয়েকদিন পূর্বে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন শুভ। তার স্কুলের সামনে যেন কেউ মাদক সেবন না করে, এ ব্যাপারে সরাসরি নিষেধ করেন। এই কারণে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে তাকে।
এ বিষয়ে জানতে বিকেলে চাষাঢ়া রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ খাঁজা মো. সুজনের অফিস কক্ষে তাকে পাওয়া যায়নি। সহকারী স্টেশন মাস্টার নাসরিন আক্তার জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। স্টেশনের ইনচার্জ এখন নেই। আগামী শনিবার পাওয়া যাবে তাকে। চাষাঢ়া রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ খাঁজা মো. সুজনের মুঠোফোনের নম্বর চাইলেও তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন সহকারী স্টেশন মাস্টার নাসরিন আক্তার।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart