1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন

শামীম ওসমানের ঘাঁটিতে আইভীর হানা!

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২০
  • ৬৯৮

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা নিয়ে শামীম ওসমানের নির্বাচনী এলাকা। এই দুটি এলাকায় শামীম ওসমানের শক্ত ঘাঁটি। পুরো জেলায় তার নেতৃত্ব প্রসারিত থাকলেও তার নেতৃত্বের সিংগভাগ সময় তিনি এ দুটি এলাকাতেই ব্যয় করেছেন এবং করছেন। যার কারণে প্রথমবারের মতো ১৯৯৬ সালে তিনি ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানেও তিনি এখানকার সংসদ সদস্য। দীর্ঘকাল ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব তার সমর্থিত নেতাদের হাতে। পাশাপাশি সহযোগি সকল সংগঠনর তার আর্শিবাপুষ্ট নেতাদের নিয়ন্ত্রনে। শামীম ওসমানের ইচ্ছার বাইরে কারো কোন তাবেদারী নেই সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা আওয়ামীলীগে। শামীম ওসমানের যে কোন সভা-সমাবেশে এই দুটি এলাকার লোকই উপস্থিত হয় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ। আর বাকী লোকজন অন্যান্য এলাকার। শামীম ওসমানের রাজনৈতিক দুরদর্শিতা ও চেইন অব কমান্ড এই দুটি এলাকার নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে রাখার পেছনে বড় শক্তি। তার আদেশ নিষেধের উপর নেতাকর্মীরা সব সময় তটস্থ থাকে। যেটা অন্য কোন নেতার মধ্যে নেই। নেতাকর্মীরাও শামীম ওসমানের নামের উপর জান-প্রাণ। শামীম ওসমানের শর্ট নোটিশে হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো হয় এই দুটি এলাকা থেকে। কিন্তু শামীম ওসমানের সুসংগঠিত কর্মীবান্ধব দুটি এলাকার একটি সিদ্ধিরগঞ্জে শুরু হয়েছে চরম বিশৃংখলা। নাসিকের সিদ্ধিরগঞ্জে ১০টি ওয়ার্ডে কোন না কোনভাবে একাধিক গ্রæপ তৈরী হয়েছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে আভ্যন্তরীন কোন্দন, আধিপত্য, দখল বাণিজ্য সব কিছুই এখন প্রকাশ্যে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এমন পরিস্থিতি তৈরী হওয়ার পেছনে অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিডরা দায়ী বলে মনে করছেন দলের সাধারণ ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন নেতাকর্মীরা।
তাদের মতে, সিনিয়র কিছু নেতা ফায়দা লুটার জন্য এবং নিজের ব্যক্তিগত বলয় বৃদ্ধি করার জন্য এই সকল অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিডদের দলে ভিড়িয়েছেন। আর এই অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিডরা নিজেদেরকে গুরুত্বপুর্ণ করে তুলতে এবং নিজেদের অবস্থান ঠিক রাখতে শামীম ওসমানের একনিষ্ঠ নেতাদের মাঝে অবস্থান নিয়ে চারদিকে বাতাস দিচ্ছেন। এতে এক হ-য-র-ল-ব অবস্থা তৈরী হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনগুলোর মধ্যে। হালুয়া রুটির ভাগ বাটোরা নিয়ে নেতাদের মধ্যে চলমান দ্ব›েদ্বর সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে দলের এই সকল হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীরা।
এদিকে গত বেশ কয়েক বছরের মধ্যে এবারই সিদ্ধিরগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালনে শামীম ওসমান সমর্থিত আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বতস্ফুততা দেখা যায়নি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগসহ কোন সংগঠনকে তাদের ব্যানারে কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। গা-ছাড়া ভাব ছিল শীর্ষ নেতাদের মধ্যে। বিশেষ করে ২ আগস্ট রাতে সিদ্ধিরগঞ্জে নাসিকের ৬নং ওয়ার্ডে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি ও সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ মন্ডলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা। পুলিশের দায়ের করা মামলার পর দুই গ্রুপের পাল্টা পাল্টি মামলা। এই তিনটি মামলা ঘিরে ৬নং ওয়ার্ডে সুনশান নিরবতা। হাইব্রিড আর অনুপ্রবেশকারীদের সাথে এলাকা ছাড়া দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দলীয় নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া থাকার বিষয়টিকে কোনভাবেই ভালোভাবে নিচ্ছে না সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামীলীগের মাঠ পর্যায়ের ত্যাগি ও পরিচ্ছন্ন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। যার কারণে সিদ্ধিরগঞ্জে এবারের ১৫ আগস্টের প্রোগ্রামে প্রভাব পড়েছে ৬নং ওয়ার্ডের ঘটনা। অনেককে বলতে শোনা যাচ্ছে, শামীম ওসমানের একনিষ্ঠ লোক এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি মতিকে যদি দলের অনুপ্রবেশকারীদের কারণে এলাকা ছাড়া থাকতে হয় তাহলে আমাদের কি হবে ভবিষ্যতে। এটা তো কোন রাজনীতি হলো না। যার কারণে অনেক এলাকায় পুর্বে যারা জাকজমাট ভাবে ১৫ আগস্ট উদযাপন করতো তারা এবার গা-ছাড়া ছিল। তাদের তৎপরতা চোখে না পড়ার মতো ছিল না। তাছাড়া সংসদ সদস্য শামীম ওসমানও ১৫ আগস্টে নারায়ণগঞ্জে আসবেন না এটা আগেই জেনে গেছেন নেতাকর্মীরা। ফলে তাদের মধ্যে ১৫ আগস্ট উদযাপনে তৎপরতা ছিল না। এমন এক পরিস্থিতিতে শামীম ওসমানের ঘাঁটিতে যখন হ-য-র-ল-ব অবস্থা তখন প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপেরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ১৫ আগস্ট ছুটে গিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জে। তিনি চারটি কর্মসুচিতে অংশ নিয়েছেন। বৃক্ষ রোপন করেছে, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়েছেন। তার কর্মসূচিগুলোতে শামীম ওসমানের আর্শিবাদপুষ্ট সিদ্ধিরগঞ্জ মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মনোয়ারা বেগম, কাউন্সিলর আলী হোসেন আলা, কাউন্সিলর ওমর ফারুকসহ অনেক নেতাকর্মীকে দেখা গেছে। শামীম ওসমানের এই নেতানেত্রীদের সাথে কর্মসূচির ফাঁকে কথা বলেছেন মেয়র আইভী। সিদ্ধিরগঞ্জে দলের বর্তমান অবস্থাও জানার চেষ্টা করেছেন। তবে মেয়র আইভীর উপস্থিতি আওয়ামীলীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উজ্জীবিত করেছে।

সুুুত্রমতে, মেয়র আইভী তার আর্শিবাদপুষ্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি রিয়াজ উদ্দিন রেনু, আওয়ামীলীগ নেতা সাদেকুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মজিবুর মন্ডল, প্যানেল মেয়র মিনোয়ারা বেগম, কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা, যুবলীগ নেতা কামরুল হাসান বাবুগংদের মাধ্যমে সিদ্ধিরগঞ্জে তার একটি বলয় তৈরী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই বলয় তৈরীতে শনিবার সিদ্ধিরগঞ্জে তার উপস্থিতি কাজে আসবে। ফলে ১৫ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জে আইভীর তৎপরতাকে অনেকেই ‘শামীম ওসমানের ঘাঁটিতে আইভীর হানা’ হিসেবেই দেখছেন।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart