1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ১০:১২ অপরাহ্ন

‘বেশি কথা কইলে জেলে ভইরা দিমু’

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০
  • ৩৬৬

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ পাক্কারোড এলাকার গার্মেন্ট শ্রমিক জাহাঙ্গীরের ছোট মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জিসা মনি গত ৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ হয়। এক মাস পর ৬ আগস্ট জিসা মনির বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। এই মামলায় ৭ আগস্ট পুলিশ গ্রেপ্তার করে জিসা মনির কথিত প্রেমিক আব্দুল্লাহ, নৌকার মাঝি খলিল ও অটো চালক রকিবকে। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার এস আই শামীম আল মামুন তিনজনকে রিমান্ডে নেয়। এবং আসামীদের স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় রিমান্ডে মারবে না এই শর্তে। কিন্তু টাকা নিয়ে এস আই শামীম অমানসিক নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে জিসা মনিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে। কিন্তু ২৩ আগস্ট সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জিসা মনি জীবিত ফিরে আসে। চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় সর্বত্র।
এদিকে কারাবন্দি নৌকার মাঝি খলিলের স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে সোমবার (২৪ আগস্ট) সদর থানার সামনে গণমাধ্যমকর্মীকে বলেন, ঈদের বন্ধে গ্রামের বাড়ীতে বেড়াইতে গেছিলাম। পরে বাড়িতে আসার পর শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে আমার স্বামীকে ঘর থেইকা ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। আমরা থানায় গেলাম। থানার যাওয়ার পর পুলিশকে বললাম আমার স্বামীরে ধরে আনছেন কেন? তখন এসআই শামীম স্যার বললেন, আপনারা সকালে আইসেন। পরে পরদিন সকালে যাওয়ার পর কইল আপনারা কোর্টে চলে যান। আপনার স্বামীরে চালান করে দিতাছি। হেই যায়গায় গিয়া জানবেন। কোর্টে নেয়ার পর আমার স্বামী ফোন করই করইলো, আমি এটি কিছুই জানিনা, আমারে ষড়যন্ত্র কইরা ফাঁসাইসে। এরপর আবার আমার স্বামী ফোন কইরা বলে শারমিন আমারে ২দিনের রিমান্ডে আনছে। তুমি কিছু টাকা নিয়া আসো নাইলে আমারে শামীম স্যার মারব। তখন আমি আবার থানায় যাই। শামীম স্যারকে বলি, স্যার আমি এতোদিন ধার দেনা কইরা চলছি, টাকা পামু কই? স্যার আমরা অনেক গরিব মানুষ, ২০ হাজার টাকা কই পামু। আমার তিনটা সন্তানের মধ্যে একটা মেয়ে প্রতিবন্ধী। এই মেয়েকে নিয়া অনেক কষ্ট কইরা চলি। কিন্তু শামীম স্যার কইলো ২০ হাজার টাকা ছাড়া হইবো না। পরে যাইতে লইসি এমন সময় ডাক দিয়া এসআই শামীম স্যার কয়, আচ্ছা ১৫ হাজার টাকা দেন। পরে আমরা কইলাম স্যার কই থেকে আনমু এতো টাকা। তখন স্যার বলে আচ্ছা ১০ হাজার টাকা দেন। আমরা কইছি ১০ হাজার টাকা দিতে পারমুনা। আমরা অনেক কষ্ট করে চলি। কিন্তু ‘টাকা না দিলে জেলে ভইরা দেওয়ার হুমকি দিছিল শামীম স্যার। টাকা না দেওয়ায় আমার স্বামীরে সারা রাইত ঝুলাইয়া পিডাইছে। এই কথা শোনার পর আমি অনেক কষ্ট কইরা ৭ হাজার টাকা দিছি। তিনি আরও বলেন, শামীম স্যার যখন আরও টাকা চাইছে দিতে পারি নাই। টাকা দেইনাই দেইখা আমাগো খারাপ কথা কইয়া বলে বেশি কথা কইলে থানায় ভইরা দিমু। আপনেগো কাছে টাকা চাইছি টাকা দেন নাই। পরে আবার আমার স্বামীরে দিয়া ফোন দেওয়াইছে। স্বামী কে কয় টাকা না দিলে তরে মাইর শুরু করমু। স্বামী কয় শারমীন তুই আমারে টাকা আইনা দিয়া বাঁচা। না দিলে আমারে মারব, টাকা আইন্না দিলাম, তারপরও আমার স্বামীরে আমি কইলাম স্যার টাকা চাইছে দিয়া দিছি তারপরও মারছে কেন? আমার স্বামী কিছু জানেনা টাকা দিয়াও অসুস্থ স্বামীকে মাইর থেইকা বাঁচাইতে পারি নাই। তারা আমার স্বামীরে ফাঁসাইয়া দিল।
এদিকে কারাবন্দি আব্দুল্লাহ’র মা শিউলী আক্তার বলেন, আব্দুল্লাহ ওয়ার্কশপে কাজ করতো। আমার ছেলের একটি স্টেটমেন্ট ছিলো যে, আমি ওর সাথে ঘুরসি একসাথে। আর কিছু করি নাই। বিনা কারণে আমার ছেলেরে এত কিছু সহ্য করা লাগছে। যদি আমার ছেলে কিছু করতো তাহলে মেয়েটা জীবিত ফিরে আসলো কেমনে? আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীমকে দুই দফায় ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রথমে যখন ধইরা আনে তখন টর্চার যাতে না করে সেজন্য ৭ হাজার টাকা দিছি। পরে আরও ৩ হাজার টাকা দিছি। টাকা না দিলে তারে মাইরা ফালানোরও হুমকি দিছে। টাকা দেওয়ার পর সে (এসআই শামীম) কইছে আমার ছেলেরে মারবো না। কিন্তু তারে মাইরা মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেওয়াইছে। এই বলে কাঁদতে থাকেন তিনি।
একই অভিযোগ আরেক আসামি রকিবের ভাই সজিবেরও। তিনি বলেন, আমার ভাই ওইদিন ঘাটে মেয়েরে নামাইয়া দিয়া আসছে বলে জানাইছে। এরপর কিছু জানে না। কিন্তু পুলিশ তারে মার্ডার মামলার আসামি বানাইয়া দিল। তার জেল খাটতে হইতাছে। এর বিচার আমি চাই।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart