1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৮:৪১ অপরাহ্ন

প্রশ্নবিদ্ধ নারায়ণগঞ্জ পুলিশ

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০
  • ৪০২

স্কুলছাত্রী জিসা মনির ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। জীবিত ব্যক্তিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার জবানবন্দি কেন দিলো আসামিরা এর কোন সদুত্তর নেই পুলিশের কাছে। বরং উদ্ভট গল্প সাজিয়ে বেকাদায় পড়েছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে পুলিশ আবার নতুন গল্প বানানোর চক্রান্ত করছে। কারণ আসামিপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, পুলিশ তাদের দোষ ধামাচাপা দিতে আসামিদের আরো একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে মামলা চলমান রাখার প্রক্রিয়া করছে। এছাড়া ঘটনার মূল নায়ক নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শামীম আল মামুনকে কর্মস্থলে বহাল রেখে পুলিশের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগিসহ সচেতন মহল। ওদিকে গণধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রীর লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার ৪৯ দির পর জীবিত ফেরত আসার ঘটনায় হাইকোর্টে রিভিশন মামলা দায়ের করেছেন পাঁচ আইনজীবী। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঁচজন আইনজীবীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির রিভিশনটি দায়ের করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই ঘটনা প্রকাশিত হলে সে সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও সংযুক্ত করা হয়েছে আবেদনের সাথে।
তবে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলছেন, ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা চলছে। এবং মৃত কিশোরী জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় দুটি কমিটি তদন্ত শুরু করেছে।
নারাণগঞ্জ জেলা জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এই মামলা, আসামিদের গ্রেপ্তার ও জবানবন্দির বিষয়সহ পুরো ঘটনার সঠিক রহস্য উদঘাটন করতে সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতেই জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সাথে পুলিশের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জবানবন্দি আদায় ও আসামিদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসনকে প্রধান করে আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। পরের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী তিন কার্য্য দিবসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে উদ্ধার হওয়া কিশোরী ও গ্রেপ্তার হওয়া তার কথিত স্বামী ইকবাল পালিয়ে বিয়ে করার বিষয়ে দুইজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ইকবালকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে আদলতে হাজির করলে আগামী ২৭ আগস্ট শুনানির তারিখ ধার্য্য করে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
তবে মেয়েকে ফিরে পাওয়ার পর তার পরিবার মামলা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিলেও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন বলছেন, আইনের ধারা অনুযায়ী সেটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। প্রয়োজনে আরো একটি মামলা হতে পারে এবং দুইটি মামলার তদন্ত চলমান থাকবে, যতোক্ষণ পর্যন্ত পুলিশ মামলার চার্জশীট না দিবে।
এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবি মো: রোকন উদ্দিন অভিযোগ করছেন, পুলিশ তাদের দোষ ধামাচাপা দিতে আসামিদের আরো একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে এই মামলা চলমান রাখার প্রক্রিয়া করছে।
আসামিপক্ষের এই আইনজীবির দাবি, বাদিপক্ষ মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ও আসামিরা তাদের জবানবিন্দ প্রত্যাহারের আবেদন করলেও পুলিশ সহযোগিতা করছে না। তার অভিযোগ, মামলার বাদি ও পুলিশ মিথ্যা মামলার নাটক সাজিয়ে নিরপরাধ তিনজনকে আসামি বানিয়ে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন ও জবানবন্দি আদায় করেছে। তাই পুলিশ তাদের অপরাধ ধাচাপা দিতে এফ আর টি (ফাইনাল রিপোর্ট) দিবে না। যার কারণে মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ বাদি পাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতা না পেলে উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে বলে জানান তিনি।
তবে নানা নাটকীয়তায় ধুম্রজাল সৃষ্টি হওয়া চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার জাহেদুল আলম বলছেন, আলোচিত এই ঘটনার বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সব ধরণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি আসামিরা যাতে ন্যায়বিচার পায় সে বিষয়টিও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর ও রেঞ্জ অফিস থেকে উর্ধতন কর্মকর্তারা নিয়মিত খোঁবখবর নেয়াসহ তদারকি করছেন।
নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার স্কুলছাত্রী গত ৪ জুলাই নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর ১৭ জুলাই সদর মডেল থানায় একটি জিডি করেন স্কুলছাত্রীর বাবা। এক মাস পর ৬ আগস্ট একই থানায় স্কুলছাত্রীর বাবা অপহরণ মামলা করেন। ওইদিনই পুলিশ বন্দর উপজেলার বুরুন্ডি খলিল নগর এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২২) ও তার বন্ধু বুরুন্ডি পশ্চিমপাড়া এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে রকিবকে (১৯) এবং ৭ আগস্ট বন্দরের একরামপুর ইস্পাহানি এলাকার বাসিন্দা নৌকার মাঝি খলিলকে (৩৬) গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ৯ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শামীম আল মামুন জানায়, স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয় আসামিরা। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। অথচ ২৩ আগস্ট দুপুরে ৪৯ দিন পর সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে স্কুল ছাত্রী জিসা মনি। এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় সর্বত্র।
গ্রেপ্তারকৃত তিন জনের স্বজনদের অভিযোগ রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ পিটিয়ে ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের আদালতে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে। তারা আরও বলেন, তিন আসামীর স্বজনদের কাছ থেকে পুলিশ দফায় ফায় ৪৭ হাজার টাকাও নিয়েছে রিমান্ডে মারবে না এই শর্তে।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart