1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ১২:০৮ অপরাহ্ন

না.গঞ্জ থানার ওসি আসাদের দৌড়ঝাপ

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৮৪

নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুল ছাত্রীর লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার ৪৯ দিন পর জীবিত ফেরত আসার ঘটনায় বেকাদায় পড়েছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, থানার ওসিকে বহাল রেখে পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ তদন্ত চলছে। এদিকে নিজেকে রক্ষায় বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ করছেন সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান। যদিও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতাহার হলেও ওসি এখনো বহাল তবিয়তে। তার পরামর্শ ও আলোচনার মাধ্যমেই জিসা মনি অপহরণ মামলায় তিন আসামী আদালতে স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাহলে তদন্ত কর্মকর্তা দোষী হয়ে থাকলে তার চেয়ে বেশি দোষী ওসি আসাদুজ্জামান। কারণ তার নির্দেশনা বা অনুমতি ছাড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিছু করেননি। তিনি যা করেছেন ওসির নির্দেশনা ও পরামর্শেই করেছেন। সেখানে এসআইকে প্রত্যাহার করে আর ওসি আসাদুজ্জামানকে থানায় বহাল রেখে পুলিশের দুই তদন্ত কমিটির তদন্ত কার্যক্রম পুরোপুরি সঠিক হবে এটা মানতে নারাজ আসামী পক্ষের আইনজীসহ ভুক্তোভোগীরা।

তারা বলছেন, জিসামনি কান্ডে কোনভাবেই দায় এড়াতে পারেন না ওসি আসাদুজ্জামান। তাছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আবার পুলিশই তদন্ত করছে, এটাও যুক্তিযুক্ত মনে করেন না তারা। যদিও পুলিশ সুপার জাহেদুল আলম বলছেন, ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা চলছে।

এদিকে জিসা মনি অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই শামীম আল মামুনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহেদুল আলম। অন্যদিকে এই মামলায় নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল হাইকে। কিন্তু তাকে এবং সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামানকে তলব করেছে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত। জিসা মনি বেঁচে থাকলেও তিন আসামি কেন ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার জবানবন্দি দিয়েছে তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত তাদের কাছে। আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এর ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালত বলেন, ভিক্টিম যেহেতু বেঁচে আছে সুতরাং হত্যার বিষয়টি মিথ্যা। তাছাড়া ধর্ষণের বিষয়টিও নিশ্চিত নয়। আসামিরা কেন হত্যা ও ধর্ষণের জবানবন্দি দিয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হলো।

বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালত এ আদেশ দেন। ওদিকে একইদিন জিসা মনি অপহরণ মামলার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা শামীম আল মামুন ও বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আব্দুল হাইকে মামলার সকল নথিপত্রসহ হাইকোর্ট তলব করেছে। সাবেক তদন্ত কর্মকর্তাকে এ ঘটনার ব্যাখ্যাসহ ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে হাজির হতে হবে। একই দিন মামলার নথিসহ হাজির হতে হবে বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তাকে। ফলে ওসি আসাদুজ্জামানের দায়িত্বহীন ও কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকান্ডের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে পুরো নারায়ণগঞ্জ পুলিশ। হাইকোর্টে রিভিশন মামলা দায়ের করার পাঁচ আইনবীজীর পক্ষে বাদী আইনজীবী শিশির মনির জানান, গত ৪ জুলাই পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়। গত ৬ আগস্ট নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর বাবা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব এবং খলিল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেন। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তিতে তারা বলেন যে তারা ওই ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন। জবানবন্দি নেওয়ার পর আসামিদের জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু ২৩ আগস্ট ওই ছাত্রীকে খুঁজে পাওয়া গেছে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, আসামিরা কীভাবে ধর্ষণ ও হত্যা সম্পর্কিত স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, যেখানে ওই ছাত্রী অক্ষত অবস্থায় ফেরত এসেছে? আইনজীবী শিশির মনির আরও জানান, রিভিশনে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের করা মামলা এবং মামলা পরবর্তী প্রক্রিয়ার শুদ্ধতা, বৈধতা এবং যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনে আদালতে ওই মামলার নথি তলব করে পরীক্ষা করে উপযুক্ত আদেশ দেওয়ার প্রার্থনা করা হয়েছে। আবেদনে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, বাদী এবং আসামিদের বিবাদী করা হয়েছে। সাবেক তদন্ত কর্মকর্তাকে এ ঘটনার ব্যাখ্যাসহ ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই দিন মামলার নথিসহ হাজির হতে বলা হয়েছে বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তাকে।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart