1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

ফতুল্লায় ট্রাক চালক ইয়াকুবের লাশ উদ্ধারের ২ মাস পর আটক ৩

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১
  • ১১৬
ফতুল্লায় ট্রাক চালক ইয়াকুবের লাশ উদ্ধারের ২ মাস পর আটক ৩

অবশেষে পুলিশ ফতুল্লায় ট্রাক চালক ইয়াকুবের লাশ উদ্ধারের দুই মাস পর তিনজনকে আটক করেছে।  ইয়াকুব নিহতের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে  রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফতুল্লার দাপা শৈলকূইড়া এলাকা তাদের আটক করে। আটককৃতরা হলো-হোসেন সর্দার, বিল্লাল ও মনির মিস্ত্রি নামক  তিনজনকে আটক করে।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফতুল্লা মডেল থানার এস,আই আসাদ।

জানা যায়, ফতুল্লা থেকে গত বছরের ২৯শে ডিসেম্বর নিখোঁজ হয় কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার ভাটিভড়াটিয়া থানার মৃত আলতু মিয়ার পুত্র ট্রাক চালক ইয়াকুব আলী মিয়া (৪৩)।

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের ২ তারিখ রাতে ফতুল্লার আলীগঞ্জস্থ জামান মিয়ার ঘাট সংলগ্ন  নদীর তীরবর্তী স্থান থেকে ট্রাক চালক ইয়াকুবের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।

লাশ উদ্ধারের পর পর নিহতের স্বজনেরা হত্যা মামলা করতে চাইলে পুলিশ হত্যা মামলা গ্রহন না করে অপমৃত্যু মামলা হিসেবে গ্রহন করেছে বলে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ।

নিহত ট্রাক চালক ইয়াকুবের স্বজনদের দাবী টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিচারের নামে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে  ইয়াকুবকে হত্যা করে লাশ ঘুম করতে মৃত দেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। কিন্ত নিখোঁজের পাচঁদিন পর লাশ নদীর তীরবর্তী স্থানে ভেসে উঠে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যায়।

নিহতের পরিবারের দাবী পুলিশ যখন লাশ উদ্ধার করে তখন মাথার পিছনে দুটি বড় বড় ক্ষতের চিহ্ন ছিল এবং পিঠে একাধিক স্থানে ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। এবং সে স্থানগুলো  দিয়ে রক্ত ঝরছিলো। পুলিশ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য হাসপাতালে পাঠানো ফরমে তা উল্লেখ্য করেছিল। পুলিশও তখন এটিকে হত্যার ঘটনা বললেও সময় বৃদ্ধির সাথে সাথে অজ্ঞাত কারণে সুর পাল্টে ফেলে পুলিশ। হত্যা মামলা করার জন্য নিহতের স্বজনরা থানায় গেলে ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম হোসেন  তাদেরকে বলে যে আপাতত আপনারা অপমৃত্যু মামলা করেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে  পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমনটাই অভিযোগ নিহতের স্বজনদের।

নিহত ট্রাক চালক ইয়াকুবের চাচা জানান, টাকা-পয়সা লেনদিন ছিল ট্রাক মালিকের সাথে। আর এ জন্য নিহত ইয়াকুব রাজহাস,মাছ,মুরগি নিয়ে মালিকের বাসায় ও গিয়েছিল। মালিক তখন নিয়ে যাওয়া মাছ,মুরগি, রাজহাস রেখে দিয়ে বলেছিল যে টাকা-পয়সার হিসাব নিয়ে মঙ্গলবার (২৯ডিসেম্বর) দাপা এলাকায় বসবে। নিখোঁজের দিন তারা দাপা শৈলকূইড়া এলাকায় বসেছিল। রাতে বাসায় ফিরে না আসায় সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে না পেয়ে পরদিন সে নিজে বাদী হয়ে  একটি সাধারন ডায়েরী করেন।

ফতুল্লা থানা পুলিশের এস,আই রাজ্জাক জিডির তদন্তও করেন। পরবর্তীতে পাঁচদিন পর হোসেন ও দাপা শৈইলকূইড়ার টিক্কা তাকে জানায় যে, নদীর তীরে একটি লাশ পরে আছে। এমন সংবাদ শুনে সে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার ভাতিজা ইয়াকুবের লাশ সনাক্ত করে পুলিশ কে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। লাশ উদ্ধারের সময় মাথার পিছনে দুটি আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং পিঠেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। যা দেখে যে কেউ বলবে এটা হত্যাকান্ডের ঘটনা।

লাশ উদ্ধারের রাত্রে পুলিশ নিখোঁজ হওয়ার  রাতের শালিসীর ঘটনায় যারা যারা উপস্থিত ছিলেন সকলের বাসায় অভিযানও চালিয়েছিল এবং মনির নামের একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে দুদিন পর আটক মনিরকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। নিহতের স্বজনরা থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে থানা থেকে বড় স্যার (ওসি আসলাম হোসেন) তাদের কে জানায় যে, এটা হত্যা করা হয়েছে সেটা ঠিক নয়। কারণ ৩০ ডিসেম্বর ইব্রাহিম নামের এক লোক থানায় এসে অভিযোগ করে গেছে যে ইয়াকুব নামের এক চোর তার নিকট হইতে ৮০ হাজার টাকা চুরি করে নদীতে লাফ দিয়ে পালিয়ে গেছে। আর তাই পোস্ট মোর্টেম রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এটা হত্যা মামলা হিসেবে নেয়া যাবে না। তখন থানার বড় স্যার তাকে বলে যে আপাততঃ অপমৃত্যু মামলা করেন রিপোর্টের পর হত্যা মামলা নিবো এতে করে মামলা আরো পোক্ত হবে। তিনি এ প্রস্তাবে রাজি না হলে তার পরবর্তীতে নিহতের স্ত্রী কে ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে অপমৃত্যু মামলা হিসেবে রেকর্ড করে।

নিহত ট্রাক চালক ইয়াকুবের স্ত্রী জরিনা জানায়, ঘটনার দিন সে ও তার স্বামী ফতুল্লা বাজারে এসেছিল। সন্ধ্যার দিকে হোসেন নামক এক ব্যক্তি তার স্বামীর মোবাইলে ফোন করলে তার স্বামী বলে যে ফতুল্লায় এসেছে। কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তি ফতুল্লায় এসে কাপড়ের মার্কেট থেকে তার ছোট বাচ্চাদের জন্য দুই সেট জামা- কাপড় ও সাড়ে ৩০০ টাকা দিয়ে একটি জ্যাকেট কিনে দেয়। এবং তার স্বামীকে নিয়ে অন্য একটি রিক্সায় করে চলে যায়। চলে যাবার সময় তার স্বামী তাকে বলে যায় যে,ট্রাক মালিক এসেছে সেখানে বসবে হোসেন ভাই, টিক্কা ভাই সহ অনেকেই থাকবে। সারারাত স্বামী ফিরে না আসায় সে হোসেনের নিকট তার স্বামীর কথা জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়,তার স্বামী নদীতে লাফ দিয়ে পালিয়ে গেছেন। আবার পরক্ষনেই বলছেন যে,লজ্জার বিষয় কাউকে বইলেন না ইয়াকুব অন্য এক মহিলা কে বিয়ে করে পালিয়ে গেছে সময় হলে ঠিকই ফিরে আসবে। সে তার স্বামীর ছবি নিয়ে নদীর তীরবর্তী স্থানে অনেককেই তার স্বামীর ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন ছবির এই ব্যক্তি নদীতে লাফ দিয়েছেন কিনা। সকলে না করলেও বয়স্ক এক দারোয়ান বলেছে যে টাকার জন্য এক ব্যক্তিকে কারা যেনো মারতে মারতে  কাল রাত নিয়ে যাচ্ছিল।

জরিনা আরো বলেন, পরিকল্পিত ভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে ।আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই ।কেনো হত্যা মামলা করেন নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমরা বেশীকিছু বুঝিনা পুলিশ আমাদের কে বুঝিয়েছে যে রিপোর্ট এলে হত্যা মামলা করবে এই বলে তার নিকট থেকে স্বাক্ষর নিয়েছে। হত্যার সাথে জড়িত একজন কে গ্রেফতার ও করেছিলো আবার ছেড়েও দিয়েছে পুলিশ ।তিনি তার স্বামী হত্যার বিচার দাবী করেন।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart