1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন

ত্বকী মঞ্চে ত্বকীসহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার দাবি

নারায়ণগঞ্জ টাইমস
  • সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪৮

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীসহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেছেন নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি।

 

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরের চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ত্বকী হত্যার ৯৫ মাস উপলক্ষ্যে বিচারের দাবিতে মোমশিখা প্রজ্জ্বালন কর্মসূচীতে বক্তব্যকালে তাঁরা এ আহবান জানান।

 

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় সহ-সভাপতি মনি সুপান্থ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, নিহত ত্বকীর বাবা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, খেলাঘর আসর জেলা কমিটির সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, উদীচী জেলা সভাপতি জাহিদুল হক, সিপিবি জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, ওয়ার্কার্স পার্টি জেলার সভাপতি হাফিজুর রহমান, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি প্রদীপ ঘোষ, সমমনা’র সভাপতি দুলাল সাহা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম, সহ সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, কবি আরিফ বুলবুল।

 

রফিউর রাব্বি বলেন, ত্বকীকে অপহরণের পর ওই দিন আজমেরী ওসমানের টর্চার সেলে উইনার ফ্যাশনে নিয়ে যাওয়া হয়। আসামীরা তাদের জবানবন্দীতে বলেছে, ওই দিন রাত ১২টার আগে তাঁরা ত্বকী হত্যা করে।

 

ওই দিন রাত ৯টায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে ডায়েরী করি, অভিযোগ দায়ের করি এবং পরে র‌্যাব অফিসে যাই। পুলিশকে তৎপর হতে বললাম, কিন্তু পুলিশ তৎপর হলে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে না।

 

নারায়ণগঞ্জের সমস্ত কিছু তাদের জানা, কারা খুন, চাঁদাবাজি, মাস্তানি করে। তাঁরা যদি সেসময় টর্চার সেলে অভিযান চালাতো তাহলে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে না। এর অনেক পড়ে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে।

 

রফিউর রাব্বি বলেন, আমাদের সংবিধানে বিচার পাওয়ার অধিকার, নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অধিকার নিশ্চিত করেছে। আমাদের মৌলিক যে দাবিগুলো রয়েছে, সেই দাবিগুলো সংবিধান নিশ্চিত করেছে। যে সংবিধানটি মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে আমরা পেয়েছি।

 

এই দাবিগুলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে যুক্ত রয়েছে। যেজন্য বিচার পাওয়ার অধিকার, বেঁচে থাকার, নিরাপত্তার অধিকার প্রত্যেকটি নাগরিকের রয়েছে। এই যে সাংবিধানিক অধিকার এটি কে দেবে? এটি করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের পরিচালনায় যারা থাকেন শাসকগোষ্ঠি তাদের।

 

তাদের কাজ হচ্ছে সংবিধান অনুযায়ী মানুষের এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করা। কিন্তু যখন শাসক গোষ্ঠি অধিকার নিশ্চিত করার পরিবর্তে অধিকার হরণ করে, হত্যা, খুন খারাপীর সাথে জড়িত তাদের নিরাপত্তা দিতে থাকে, তাদের সহযোগীরা উৎসাহী হয়ে উঠে। তখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকে না, সংবিধান থাকে না, এটি সভ্য দেশ থাকে না।

 

তিনি বলেন, উন্নয়ন কাকে বলা যায়, যার জীবন নাই, জীবিকা নাই, তার কাছে উন্নয়নের কি মূল্য থাকতে পারে। প্রথমে জীবন ও জীবিকা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। সরকার প্রতিটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁরা তাদের নিজেদের সরকারের নিরাপত্তার প্রয়োজনে সমস্ত জনগণকে অনিরাপদ করেছে

 

ঘাতকদের সাথে হাত মিলিয়েছে, আতাঁত করেছে। আমাদের দেশের জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্বে যে বাহিনী রয়েছে, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী এদের সবাইকে বিভিন্ন সময় জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে। জনগণের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, উন্নয়নের চেয়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আমাদের অধিকার। আমরা দুর্বিষহ অবস্থা থেকে মুক্তি চাই। সরকার বিভিন্ন সময় অপরাধগুলো ধামাচাপা দিয়েছে। অপরাধ বিভিন্ন দেশে হয়, উন্নত দেশে হয় না তা নয়, কিন্তু সব দেশেই অপরাধের বিচার হয়। অপরাধ করে পাড় পাওয়া যায় না। কিন্তু বাংলাদেশের হচ্ছে উদাহরণ, যেখানে অপরাধ করে পাড় পেয়ে যায়।

 

ত্বকীর ঘাতক যারা এই ওসমান পরিবারের সদস্যরা সরকার দ্বারা পুরস্কৃত হয়ে আইন প্রণেতা হয়েছে। এই খুনীরা যখন জনগণের রাষ্ট্রের আইন প্রণেতা হয় তখন দেশের এই চেহারায়ই হয়। এটাকে কোন মানবিক রাষ্ট্র বলে না, এটা মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হয় না। ঘাতকদের যে শাসকগোষ্ঠি প্রশ্রয় দেয়, সেই শাসকগোষ্ঠি প্রকারান্তরে ঘাতক।

 

আইয়ুব খানের সময় যারা জনগণকে নিপীড়ন করেছে, আমরা সমস্ত দায় আইযুব খানকেই দিয়েছি, ঘাতক তাকেই বলেছি। এরশাদের সময় আমাদের শত শত ছাত্র, নিরীহ মানুষকে যেভাবে তাঁরা হত্যা করেছে, আমরা ঘাতক এরশাদকেই বলেছি। আজকে এই সরকারের আদলে যে নিপীড়ন হচ্ছে, তাঁর দায় অবশ্যই শেখ হাসিনাকে আমরা দিচ্ছি। এর দায় শেখ হাসিনার।

 

তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে জনগণের নিরাপত্তা ধ্বংস করেছে। জনগণকে নিরাপত্তাহীন করেছে বিচার বন্ধ করে রেখেছে। যদি এমন হতো এই অপরাধের কোন কুল কিনারা করা যাচ্ছে না, অপরাধী চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু অপরাধীরা চিহ্নিত হলেও তিনি বিচার করছেন না। তিনি মনে করেন, ঘাতকরা তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন। ঘাতকদের যে কুৎসতি কদর্য চেহারা র‌্যাব ও জনগণ উন্মোচন করেছে।

 

আমরা সাগর-রুনি, ত্বকী হত্যার সাথে সাথে আশিক ভুলু হত্যার বিচার চাই। আড়াই বছরের শিশু সাদমান সাকীকে উদ্ধার চাই।
বক্তারা বলেন, ত্বকী হত্যায় গ্রেপ্তার আসামী হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবীনবন্দী দিলেও ত্বকীর খুনী আজমেরী ওসমানকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। আজমেরী ওসমান প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।

 

এর পর থেকে ত্বকীর হত্যার বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোকপ্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart