1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০১:৪৭ অপরাহ্ন

জাহাঙ্গীরকে জাতীয় পাটির হুশিয়ারী

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৩১২
জাহাঙ্গীরকে জাতীয় পাটির হুশিয়ারী

‘লাঙ্গল লাথি মেরে নদীতে ফেলে দিন’ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের এমন বক্তব্যে চরমভাবে ক্ষুব্দ নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পাটির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তারা বলছেন, একজন সুস্থ মানুষ জাতীয় পাটির প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে এমন বক্তব্য দিতে পারে না। যেখানে জাতীয় পাটি মহাজোটের অন্যতম শরীক দল সেখানে আওয়ামীলীগ নেতার এমন বক্তব্য শিষ্টাচার বহিভুত। বিএনপি মার্কা জাহাঙ্গীর আলমরা মাঝে মাঝে উল্টা পাল্টা বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় থাকতে চায়। আসলে এটা তার স্ট্যান্ডবাজি। কয়দিন আগে আওয়ামীলীগকে স্বাধীনতা বিরোধী দল বলেন তিনি। সাংগঠনিক শাস্তির ভয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে রক্ষা পেয়েছেন । এবার আবার জাতীয় পাটি নিয়ে কথা বলছেন। এরজন্য তাকে সমচিত জবাব দেয়া হবে। জাহাঙ্গীর আলমকে হুশিয়ারী দিয়ে তারা বলেন, এমন কিছু করতে চেষ্টা কইরেন না যাতে বন্দরের মাঠিতে পা রাখতে কষ্ট হয়।

নারায়নগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুততিমূলক কমিটির আহবায়ক ও বন্দর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সানা উল্লাহ সানু বলেন, লাঙ্গল প্রতীকটি কোন সামাজিক বা অন্য কোন বিষয়ের প্রতীক না। এটা একটা জাতীয় প্রতীক, সরকারীভাবে নিবন্ধনকৃত। স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের প্রতীকও নয়। জাতীয় পার্টির প্রতীক লাঙ্গল। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর আলম যে বক্তব্য দিয়েছে তা কোন সুস্থ মানুষ দিতে পারে না। তারপর আবার জাহাঙ্গীর আলম জেলা আওয়ামীলীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ পদদারী নেতা। তার মুখে এমন অশালীন বক্তব্য বেমানান। লাঙ্গল প্রতীকের কারণে মহাজোট হয়েছে। মহাজোট হওয়াতেই আজ শেখ হাসিনা সরকার। লাঙ্গল প্রতীককে সয়ং জননেত্রী শেখ হাসিনা ভালবেসে নারায়নগঞ্জ-৫ আসনে বার বার দিয়ে যাচ্ছেন। আর সেই প্রতীক নিয়ে বিএনপি মার্কা জাহাঙ্গীর আলমরা কথা বলে এটা কিসের ইঙ্গিত। শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে ও শান্ত নারায়নগঞ্জকে অশান্ত করার মিশন নিয়ে তারা কাজ করছে। বিগত উপ নির্বাচনে শেখ হাসিনার প্রতীক লাঙ্গলের বিরুদ্ধে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের এস এম আকরামের নির্বাচন করেছে।

মহানগর জাতীয় পাটির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক আকরাম আলী শাহীন বলেন, যে নিজেই নিজ দলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়, আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতা বিরোধী দল বলে, তার দ্বারা এমন বক্ত্যবই সম্ভব। রাজাকারদের সাথে নয়, জনগণ ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়েই বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম ওসমান চলেন। জাহাঙ্গীর আলম যাকে নেত্রী মানে তারা তো দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে, তো উনি কাকে নেত্রী মানে?

আকরাম আলী শাহীন আরও বলেন, অকৃতজ্ঞরা অকৃতজ্ঞের মতোই কথা বলবে। ২০০৮ সালের নির্বাচনী জনসভায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য চার চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রয়াত নাসিম ওসমানের হাতে নৌকার পরিবর্তে লাঙ্গল তুলে দিয়েছিলেন। সেসময় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, লাঙ্গলকে আমি নৌকায় তুলে নিলাম। সুতরাং, জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য তার নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। উনি যে মাপের বক্তব্য দিচ্ছেন, সে মাপের নেতা নন উনি। উনার বক্তব্যের মন্তব্য করতেও রুচিতে বাধে।

 

মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ও কাউন্সিলর আফজাল হোসেন বলেন, ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবার ব্রিটিশ আমল হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত নারায়নগঞ্জবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। ওসমান পরিবারের বাড়িতে আওয়ামীলীগের জন্ম। আর সেই পরিবার ও জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম ওসমানসহ লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বিরুপ মন্তব্য করে। কোন সুস্থ লোক এমন ধরনের কথা বলতে পারে না। জাহাঙ্গীর আলমের মত নেতা না পেতাদের সাবধান করে দিতে চাই। শান্ত নারায়নগঞ্জকে অশান্ত করার চেষ্টা কইরেন না। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার এটি স্কুল জীবনের খেলা। এমন কিছু করতে চেষ্ঠা কইরেন না যাতে বন্দরের মাঠিতে পা রাখতে কষ্ট হয়।

 

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোঃ বাদলকে নিয়ে ব্যাঙ্গাত্বক বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, আমরা জানি কোন লোক দেশ রর্ক্ষাথে, বা অন্যকোন ভাবে নিহত হলে তাকে শহীদ বলে। আর মতলবের বাদলের নামের সাথে জড়িত শহীদ। তিনিতো এখনো বেচেঁ আছেন এবং দলের বিরুদ্ধে নানা প্রকার বক্তব্য দিচ্ছেন। তাহলে তিনি শহীদ হলেন কিভাবে। গত (৮ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বন্দর থানাধীন নাসিক’র ২৭নং ওয়ার্ডস্থ কুড়িপাড়া এলাকায় বঙ্গবন্ধু’র জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ও নারায়ণগঞ্জ পরিষদ ৩নং ওয়ার্ড এর উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণী অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, এই এলাকার এমপি সেলিম ওসমান রাজাকারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন।যারা নৌকা মার্কাকে ডুবিয়ে, নৌকার পক্ষে যারা ছিলেন তাদের মেরে ভোট ছিনিয়ে নিয়ে ঐ রফিক রাজাকারের ছেলে মাকসুদকে পাশ করিয়েছেন। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আমরা আনোয়ার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী’র কাছে যাবো ৫ ইউনিয়নেই নৌকা চাইবো। নৌকা যাকেই দেবে আমরা তার জন্যই কাজ করব। তার রাজাকারের বক্তব্য নিয়ে অনেকে বলেন, স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমান রাজাকার পরিবারদের আশ্রয় দেন। অথচ যে অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রাখেন সে মঞ্চেও রাজাকারের ছেলে নাসিক ১৯ নং ওর্য়াডের বাসিন্দা রাজাকারের ছেলে জসিম উদ্দিন জসু উপস্থিত ছিলেন। তালিকাভুক্ত রাজাকারের ছেলেকে মঞ্চে রেখে জাহাঙ্গীর আলম আবার কিভাবে রাজাকার বিষয়ে একজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে মন্তব্য করেন। বর্তমান শান্তিপূর্ণ নারায়নগঞ্জকে কি অশান্ত করার পায়তারা করছে জাহাঙ্গীর আলমসহ কিছু নেতা।

 

জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, কোথাকার না কোথার বাদল মতলব এর লোক নদীতে ভেসে এসে আনোয়ার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কথা বলে মেয়র আইভি’র বিরুদ্ধে কথা বলে। তার কত বড় দুঃসাহস? তিনি জনগনকে বলেন যে নৌকায় ভোট দিবেন না। জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা তার বিচার চাইবো।

 

উল্লেখ্য যে, এরপূর্বেও জেলার আওয়ামীলীগের এ নেতা সরকার বিরোধী বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন এমনকি বহিস্কারও হন। সে বিষয়ে তিনি প্রথম অবস্থায় অস্বীকার করলেও পরে ভিডিও প্রকাশ হলে তিনি ক্ষমা চান। সেই জাহাঙ্গীর আলম গত ৮ ফেব্রুয়ারি বক্তব্য দিতে গিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। এমনকি একটি জাতীয় প্রতীক ” লাঙ্গল” কে লাথি মেরে নদীতে ফেলে দেয়ার মত অশালীন বক্তব্য দেন। ইউপি নির্বাচন স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এখানে লাঙ্গল প্রতীককে লাথি মেরে নদীতে ফেলে দেয়ার বক্তব্যকে উস্কানিমূলক বলে মন্তব্য সচেতন মহলের। তার এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টি কঠোর অবস্থানে যাওয়ার আশংকাও রয়েছে। জেলা নেতাদের দিকে তাকিয়ে তৃনমূল জাতীয় পার্টির নেতারা। জেলা বা মহানগর নেতাকর্মীরা একটু ইঙ্গিত দিলে জাহাঙ্গীর আলমের মত পেতাদের বন্দরের মাটিতে পা রাখতে দেয়া হবে না বলে অনেকে জানান।

এসময় তিনি নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমানের উদ্দেশ্যে বলেন,নৌকা নিয়ে কোন কথা বলার অধিকার নেই। কোথাকার কোন লাঙ্গল। লাঙ্গল দিয়ে এখন হাল চাষ হয় না। এখন ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ হয়। লাঙ্গল লাথি মেরে নদীতে ফেলে দেন। প্রধানমন্ত্রী যাকে নৌকা দিবে আমরা তার জন্য কাজ করব। আপনার কথা আমি মানিনা এবং মানব না।

উল্লেখ্য,অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন এবং সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আলাউদ্দিন।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart