1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন

২৬ দিনে ৩ চাঁদাবাজি মামলা থেকে খালাস নুর হোসেন

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১৫৭
২৬ দিনে ৩ চাঁদাবাজি মামলা থেকে খালাস নুর হোসেন

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেন ও তার সহযোগিরা গত ২৬ দিনে একই আদালত থেকে পৃথক তিনটি চাঁদাবাজি মামলায় খালাস পেয়েছেন।

 

বুধবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক সাবিনা ইয়াসমিনের আদালত তাকে একটি চাঁদাবাজি মামলায় খালাস দেন। এরআগে ১০ ডিসেম্বর ও ৩১ ডিসেম্বর পৃথক দুটি চাঁদাবাজি মামলায় একই আদালত থেকে নুর হোসেন ও তার সহযোগিরা খালাস পেয়েছেন।

 

বুধবার আদালতের অতিরিক্ত পিপি জাসমীন আহমেদ জানিয়েছেন, আকরাম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলায় নূর হোসেনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এই মামলার অন্য ৭ আসামিকেও খালাস দেওয়া হয়েছে।

 

আদালত সূত্রমতে, ৩১ ডিসেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক সাবিনা ইয়াসমিন রায় ঘোষণা করেন। একই আদালতে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে আরও ৬টি মামলার শুনানি হয়েছে। নূর হোসেনের সঙ্গে খালাসপ্রাপ্তরা হলেন-নুর হোসেনের ভাতিজা কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল, শাহজাহান, মর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ ও বুলবুল।

 

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জাসমীন আহমেদ জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের ৩০ মে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার হিরাঝিল এলাকার ইকবাল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে নূর হোসেন ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে ইকবালের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে নূর হোসেন ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে নূর হোসেনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ায় নূর হোসেনসহ তার ৫ সহযোগীকে আদালত খালাস প্রদান করেছেন।

 

তিনি আরও বলেন, রায় ঘোষণার পর আদালতে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ ৬টি মামলায় শুনানি হয়েছে। এর মধ্যে একটি চাঁদাবাজি ও একটি অস্ত্র আইনের মামলায় যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ৪টি মামলায় সাক্ষী আসেনি।

আরও পড়ুন : অস্ত্র মামলায় নুর হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

এছাড়া গত ১০ ডিসেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় খালাস পেয়েছেন নূর হোসেনসহ ৬ জন। ওই দিন দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক বেগম সাবিনা ইয়াসমিন এ আদেশ দেন। এসয়ম নূর হোসেনসহ মামলার অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। একইসাথে আদালত আরও দু’টি মামলার রায় আগামী ৬ জানুয়ারি ধার্য করেন।

 

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত কৌঁসুলি জাসমিন আহমেদ জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাংরোড এলাকার ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এই চাঁদাবাজির মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ইকবালের কাছে নূর হোসেন ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে বলে অভিযোগ আনা হয়। নূর হোসেনের সহযোগীরা ইকবালের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদার জন্য ভাংচুর করে। এ ঘটনায় আলোচিত সাত খুন মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেন (৫০), সাজাপ্রাপ্ত আলী মোহাম্মদ (৪০), মোর্তুজা জামান (চার্চিল) (৩৮), শাহজাহান (৩৬) সহ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও নূর হোসেনের ভাতিজা শাহজালাল বাদল (৩৫) ও তার সহযোগী বুলবুল ওরফে টুণ্ডা বুলবুলসহ মোট ৬ জনকে আসামি করা হয়।

 

তিনি আরও জানান, ২০১৪ সালে এই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয় পুলিশ। আদালত এই মামলায় ৬ জন সাক্ষীর গ্রহণ ও শুনানি শেষ আজ রায় দিয়েছেন। রায়ে মামলা থেকে ৬ জনকেই খালাস দিয়েছেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, নুর হোসেন জেলে থাকলেও তার ভাই-ভাতিজা এবং বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় বহাল তবিয়তে রয়েছে। তাদের ভয়ে চাঁদাবাজি মামলাগুলোর বাদী ও সাক্ষীরা আদালতে যেতে সাহস করেনি। আর যারা গিয়েছে তারা বাধ্য হয়েছে নুর হোসেনের পক্ষে মিথ্যা সাক্ষী দিতে।

 

উল্লেখ্য, নুর হোসেনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলার মধ্যে ২০১৪ সালে ৭ খুনের পর নূর হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ৩টি মামলা করে পুলিশ। ২০১৪ সালের ১২ জুন ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে অটোরিকশাচালক সাইদুল ইসলামের মামলায় নূর হোসেন, তার ভাই নূর উদ্দিন, তাদের ভাতিজা শাহজালাল বাদল, লোকমানসহ ৪ জনকে আসামি করা হয়।

 

শিমরাইলে নূর হোসেনের মাদক স্পট থেকে ২৯০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের এসআই শওকত হোসেন বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। সাত খুনের পর নূর হোসেনের বৈধ অস্ত্রটির লাইসেন্স বাতিল করে জেলা প্রশাসন। সেটি জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু সেটি জমা না দিয়ে নূর হোসেন দেশের বাইরে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা দায়ের হয়।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart