1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ১১:২১ পূর্বাহ্ন

আড়াইহাজারে ৩৫ গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৬৯

আড়াইহাজার উপজেলার দক্ষিণপাড়া এলাকার হতদরিদ্র লতিফুন নেছা পাকা ঘরে ঘুমাবেন; এটা তাঁর কল্পনারও অতীত ছিল। কিন্তু ঘটনা তা-ই ঘটতে যাচ্ছে। তিনি এখন আধাপাকা ঘর পাচ্ছেন।

আরও পাচ্ছেন একখন্ড জমি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গৃহীত ‘ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম’-এর আওতায় এ জমি ও ঘর দেওয়া হচ্ছে তাকে।

শুধু লতিফুন নেছা নন, এমন ঘর ও জমি পাচ্ছেন উপজেলার ৩৫ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন দরিদ্র মানুষ। প্রত্যেকের নামে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে দুই শতক করে খাসজমি।

আর ঘর নির্মাণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার করে টাকা, যার পুরোটাই বহন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। ঘর ও জমি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়েছেন হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যরা।

বিশনন্দী ইউনিয়নের গাজীপুরা গ্রামের বাসিন্দা রাশিদা বেগম বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর শশুরবাড়ীর বাড়ির লোকজন স্বামীর ভিটা তাকে থেকে তাড়িয়ে দেয়। একটু আশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় জি এর কাজ করেছি।

বয়সের ভারে এখন আর কাজ করতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটা পাকা ঘর দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এটা তার স্বপ্নের মত লাগছে।

একই ইউনিয়নের চৈতনকান্দা গ্রামের বিল্লাল ও আকলিমা বেগম বলেন, আগে বৃষ্টি এলে ঘরের চাল থেকে বৃষ্টি পড়তো এবং কষ্টে দিন যাপন করতে হতো। এখন প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঘর উপহার দিচ্ছেন, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

মাহমুদপুর ইউনিয়নের আগুয়ান্দি গ্রামের ষাটোর্ধ্ব শাহজাহান মিয়া ও রেহেনা বেগম বলেন, খুব কষ্টে আমরা দুই বুড়া-বুড়ি বসবাস করি। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনাকে আশির্বাদ করি, আমাদের মতো যাদের ঘর নাই সবার ঘর করে দেওয়ার জন্য।

ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া গ্রামের রিহম মিয়া বলেন, দিনমজুরি করে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। সেখানে পাকা বাড়ি স্বপ্নেও চিন্তা করতে পারিনি।
হাইজাদী ইউনিয়নের সেন্দী গ্রামের মমতাজ বলেন, তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর মাথা গুজার ঠাই ছিল না।

হাজার চেষ্টা করেও পাকা ঘরে ঘুমানোর সামর্থ্য তাঁদের ছিল না। মাত্র দুই শতক জমির ওপর বেড়ার ঘরে বসবাস করতেন তিনি। শীতে বেড়ার ঘরে অনেক কষ্ট হতো। ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ফতেহপুর ইউনিয়নের বগাদী গ্রামের আঃ মালেক জানান, পাটখড়ির বেড়ার ঘর ছিল তাঁদের। এখন ইট দিয়ে পাকা ঘর করে দিয়েছে সরকার। সেই ঘরে তাঁরা ঘুমাবেন। ঘর দেখে চোখ মুখে প্রশান্তি হাসি।

সাতগ্রাম ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের সেলিনা বেগম বলেন, “এই ঘর পেয়ে আমি যে সুখ পাইছি শেখের বেটিকে আল্লাহ যেন তার চেয়ে বেশি সুখ-শান্তি দেন। সারাজীবন যেন সব দুঃখীদের পাশে থাইকা শান্তিতে দেশ চালাইতে পারেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন দেশের প্রতিটি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য বাসস্থান। এই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ শ্রকল্প-২ এর অধীনে আড়াইহাজার উপজেলায় ৫২০ টি ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়েছিল।

ঘরগুলো প্রায় সবগুলো ইতিমধ্যে উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে নতুনভাবে মুজিব বর্ষে আরও ৩৫টি ঘর বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বরাদ্দকৃত ৩৫ ঘরের নির্মাণ শেষ হয়েছে।

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) উপকারভোগীদের হাতে ঘরের চাবি প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পরপরই বুঝিয়ে দেওয়া হবে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সংসদ সদস্য আলহাজ নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সময়ে আড়াইহাজার উপজেলায় ৫২০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। এসব ঘরের চাবি ইতিমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শনিবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা আরও ৩৫ ‘ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর উপহার দিচ্ছেন। এতে পরিবারগুলোর সামাজিকভাবে আত্মমর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart