1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন

এমপি খোকার দু:খ প্রকাশ

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৬৮
এমপি খোকার দু:খ প্রকাশ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে নিজের বড় বোনকে অন্যের কবরে দাফন করা নিয়ে সৃষ্ট ঘটনায় আবারো দু:খ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় মরহুম ডা. শেখ ইসরাইল হকের পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সোমবার (২১ ডিসেম্বর) তিনি এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। কেন কিভাবে অন্যের কবরে বোনের লাশ দাফন করা হয়েছে তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
এমপি খোকা ফেসবুকে তার নিজের আইডি থেকে দেয়া স্ট্যাটাসটি এখানে হুবহ তুলে ধরা হলো:
অনাকাঙ্খিত ও অনিচ্ছাকৃত ভুলে “মরহুম ডাঃ শেখ ইসরাইল হকে” ওনার কবরে আমার বড় বোনকে দাফন করায় আমি ও আমার শোকাহত পরিবার আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
আমি আমার মা’কে ছোট বেলায় হারানোর পর মাতৃতুল্য বড় বোনের স্নেহ মমতায় মায়ের অনুপস্থিতি তেমনটা অনুভব করিনি। সেদিনই আমি অনুভব করেছি যে, আমার মা নেই, যেদিন আমার বড় বোনকে হারিয়েছি। মায়ের মৃত্যুর পরে বড় বোনের আদর স্নেহে বড় হয়েছি। আমার বড় বোন এবং বড় বোনের একমাত্র মেয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চারদিন আগে পরে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে গিয়ে দীর্ঘ ১১দিন একই রুমে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গত ১৭ নভেম্বর ২০২০, রাত সাড়ে ১১টায় আমার বড় বোন খালেদা খানম ডলি মৃত্যুবরণ করেন। আমার বোনের লাশ যখন হাসপাতালের আইসিইউ রুম থেকে নিয়ে আসি, তখন একই রুমে লাইফ সাপোর্টে থাকা আমার ভাগনী জানেন না যে, তাঁর মা’কে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমার বোন মারা যাওয়ার পর তৎক্ষনাৎ আমি হাসপাতালে ছুটে যাই।
আমার মাতৃতুল্য বড় বোনের লাশ নিয়ে আমি যখন নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই এবং আমার বোন যেহেতু করোনায় আক্রান্ত রোগী ছিলেন, সেহেতেু চিকিৎসকদের পরামর্শে এবং সার্বিক বিবেচনায় অল্প সময়ের মধ্যেই লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত নেই। ইতোমধ্যে আমার উদ্যোগে করোনায় মৃতদের দাফনের জন্য গঠিত “আমরা স্বেচ্ছাসেবী করোনা যোদ্ধা” টিমের সদস্যদের খবর দেই। যাদের কে নিয়ে আমি ইতোমধ্যেই করোনায় মৃত ৩৬টি লাশ দাফন সম্পন্ন করেছি।
সে আলোকে আমার আত্মীয় স্বজন ও এলাকার মুরুব্বীদেরকে আমার বোনের লাশ ফজরের নামাজের সময় জানাজা এবং সাথে সাথেই দাফনের জন্য প্রস্তুত হতে অনুরোধ করি, তারই ধারাবাহিকতায় আমলাপাড়া এলাকার মসজিদগুলোতে মাইকিং করা হয়। আমি যখন বোনের লাশ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের অতি সন্নিকটে, তখনই আমার নিকটাত্মীয়রা আমাকে ফোনে জানান যে, কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কারনে রাতের বেলায় কবর খনন ও দাফন কার্যক্রম বন্ধ। যেহেতু করোনায় আক্রান্ত লাশ অতিদ্রুত দাফন করা জরুরী, সেহেতু আমি নিজেই কবর খননের বিষয়ে খোঁজ নিতে মাসদাইরস্থ কবরস্থানে যাই। যাওয়ার পরে তারা আমাকেও বলেন যে, রাতের বেলায় কবর খনন ও দাফন নিষিদ্ধ। তখন আমি তাদেরকে অনুরোধ করি, যেহেতু করোনায় আক্রান্ত লাশ আমার নিজের আপন বড় বোনের, প্রয়োজনে আমি নিজেই মেয়রের সাথে কথা বলবো বলেও দায়িত্বরতদের জানাই। কিন্তু তখন রাত আড়াইটা বেজে যাওয়ায় ওই সময় মেয়রকে ফোন করা সমীচিন মনে করিনি। তাই কবরস্থানের দায়িত্বরতদের মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে অনুরোধ করি, তারা যেন কবর খননের ব্যবস্থা করেন। ইতোমধ্যে আমার ভাগিনা এবং এক বোন আমাকে জানান যে, আমার বড় বোন মৃত্যুর পূর্বে অসিয়ত করে গিয়েছেন যে, তাঁকে যেন আমার বাবা মরহুম আইয়ুব আলীর কবরে দাফন করা হয়। কিন্তু আমার বাবার কবরে পরবর্তিতে আমার অপর এক বোনের শশুরকে কবর দেয়া হয় এবং পরে আমার বোনের শশুর বাড়ীর লোকজন কবরের জমিটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। যেহেতু তারা কবরটি ক্রয় করেছেন, সেহেতু নিয়ম ও বিবেকের তাড়নায় বড় বোনের লাশ দাফনের বিষয়ে তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করি। তারা অনিহা প্রকাশ করেন, তখন আমি সিদ্ধান্ত বাতিল করি। আমি আমার আত্মীয় স্বজনদেরকে আমার বড় বোনকে অন্যত্র দাফন করার ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলিয়া স্হান ত্যাগ করার মূহূর্তে আমার মামাতো ভাই শহিদুর রহমান তার বাবা মনসুর আহমেদের কবরে আমার বড় বোনকে শায়িত করার জন্য বলেন। মামাতো ভাই শহিদুর রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমি কবরস্থান থেকে চলে আসি।
একই কবরে ১৯৭৭ সালে আমার মা’কে দাফন করা হয়েছিলো, তৎপরবর্তীতে আমার মামা সহ আরও বিভিন্ন মৃত ব্যাক্তিকে একই কবরে দাফন করা হয়।
আমি জানতাম না যে, উল্লেখিত কবরটি অন্য কোনো পরিবারের খরিদ করা। মহান আল্লাহ পাক কে স্বাক্ষী করে বলিছি, যদি জানতাম তাহলে কোন ভাবেই মায়ের মতো বোনকে এই স্হানে মালিকানা পরিবারের অনুমতি বিহীন দাফন করার সিদ্ধান্ত নিতাম না, যেমনটি আমার বোন অসুস্হ অবস্হায় হাসপাতের বিছানায় সুয়ে বাবার কবরে কবর দেওয়ার অসিয়ত করে যাওয়ার পরও বাবার কবরের ক্রয় করা পরিবারের অনুমতি না পাওয়ায়, আমরা সেখানে কবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করি।
পরবর্তীতে ফজরের নামাজের পর আমার মাতৃতুল্য বড় বোনের দাফন সম্পন্ন হয়। তার চারদিন পরেই আমার সদ্য প্রয়াত বড় বোনের একমাত্র কন্যা আমার আদরের ভাগনী করোনায় আক্রান্ত হয়ে লাইফ সাপোর্ট এ থাকা অবস্হায় একই হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন।
আমি গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে জানতে পারি যে, আমার মামার দাফনের কয়েক বছর পর জনৈক ডাঃ শেখ ইসরাইল হক সাহেবকে একই কবরে দাফন করা হয় এবং তাঁর আত্মীয় স্বজনরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হতে উল্লেখিত কবরের জমিটি ক্রয় করেন। উক্ত আলোকে যেহেতু আমার বড় বোনকে দাফন করার বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হয়নি, তাই আমি তার পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা শ্রদ্ধেয় জনাব আমির হোসেন আমু এমপি সাহেব সাথে মোবাইলে কথা বলি। যেহেতু এটা একটা অনাকাঙ্খিত ও অনিচ্ছাকৃত ভুল, তাই তাঁর মাধ্যমে আমি মরহুম ডাঃ শেখ ইসরাইল হকের পরিবারের সদস্যদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং কবরটিতে দেয়াল নির্মানসহ মরহুম ডাঃ ইসরাইল হকের নামফলক স্থাপনের অনুমতি প্রদানের জন্য অনুরোধ করি। পরবর্তীতে তাঁর নাতির সাথেও আমি মোবাইল ফোনে অনেক বার কথা বলি এবং মরহুম এর মেয়ের সাথে দেখা করার চেষ্টা করি। তাঁদের কাছেও আমি বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা ও আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করি। আমি তাদেরকে অনুরোধ করি যে, আমি নিজ দায়িত্বে কবরটিতে দেয়াল নির্মানসহ নামফলক স্থাপনের ব্যবস্থা করবো। তৎপ্রেক্ষিতে আমি সুন্দরভাবে কবরটির দেয়াল নির্মান ও নামফলক স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করি। কিন্তু তার পরিবার সাথে আলাপ ক্রমে সিদ্ধান্ত দেন উনারা ওয়াল এর কাজ কিছু দিন পরে করার, করন অল্প কিছু দিনের কাচা কবর হওয়াতে । পরবর্তিতে আমি শ্রদ্ধেয় মরহুম ” ডাঃ ইসরাইল হক ” মরহুম এর নামে নামফলক উও কবরের নিদিষ্ট স্হানে স্হাপন করে দেই।
প্রকৃত অর্থে বিষয়টি অনাকাঙ্খিত ও অনিচ্ছাকৃত ভুল, তারপরও মরহুম ডাঃ শেখ ইসরাইল হক সাহেবের পরিবারের কারো মনে যেন কোন প্রকার কষ্ট না থাকে এবং এই পরিবার যেন আমাকে এবং আমার মরহুম বড় বোনকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন, তাই আমি এবং আমার শোকাহত পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য তাদের পরিবারের নিকট পূনরায় ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আল্লাহ পাকের নিকট উও পরিবারের সকলের সুস্হতা কমনা করি।
আমরা সবাই একদিন পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিবো, তাই উল্লেখিত কবর সংক্রান্ত বিষয়ে সকলকে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি হতে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমি মরহুম ডাঃ শেখ ইসরাইল হক সাহেবের রূহের মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতম, দোয়া ও এতিমখানায় এতিমদের খাবারের ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সৌভাগ্য নসীব করেন। আমিন।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2018narayanganjtimes
Customized By NewsSmart