1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন

‘খোকা ঈর্ষান্বিত হয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তাকে ক্ষমা করে দিলাম’

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৭৭
নারায়ণগঞ্জে আয়কর মেলায় রিটার্ণ দাখিল ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘লিয়াকত হোসেন খোকার ভাগ্য ভালো হওয়ার কারণে এমপি হয়েছে। কিন্তু এমপি হওয়ার মতো কোন যোগ্যতা তুমি রাখো না। অল্প বয়সে অনেক বড় পদ পেয়ে গেছো। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর বদৌলতে আজ এ পদ তুমি পেয়েছো। আওয়ামী লীগের জোটে না থাকলে জাতীয় পার্টির থেকে এমপি হতে পারতা না।’

জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি কর্মসূচির সমাপনী দিনে বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে কর্মসূচির সঙ্গে সংগহতি প্রকাশ করে উপস্থিত হন আনোয়ার হোসেন। এসময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পাশাপাশি নামফলক ভাঙার ঘটনায় সকল প্রতিবাদ কর্মসূচি স্থগিত রাখার কথা জানান আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আগামীতে আমি সকল অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমি আপনাদের পাশে আছি। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের এবং যারা অপরাধ করে তাদের বিরুদ্ধে আমার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। যারা আন্দোলন করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলছি এ আন্দোলন স্থগিত করলাম।’

সোনারগাঁ জিআর ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান ফটকের সামনে জেলা পরিষদের নামফলক ভাঙার প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার থেকে এক ঘন্টা করে কর্মবিরতি পালন করছিলেন জেলা পরিষদেরকর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, ‘খোকা আমার অনেক ছোট। নারায়ণগঞ্জে যত এমপি রয়েছে সবাই আমাকে গুরু বলে সম্বোধন করে। রাজনীতি কাকে বলে আমি তাদেরকে সেই শিক্ষা দিয়েছি। কিন্তু সন্ত্রাস, মাস্তান ও ভূমিদস্যুতার শিক্ষা আমি তাদেরকে দেইনি। যাদেরকে রাজনীতি শিক্ষা দিয়েছি তারাই আজ আমার উপর চড়াও হয়, নামফলক ভাঙ্গে। যারা এক সময় আমাকে গুরু বলে আখ্যা দিয়েছিল তারাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।’

তিনি বলেন বলেন, ‘আনোয়ার হোসেন একজন রাজনৈতিক কর্মীর নাম। আমি কোন সন্ত্রাসী করি না এবং গুন্ডা বা ক্যাডার নিয়ে চলি না। এটাই আমার অপরাধ। এসপি সেদিন বলেছেন, রাজনীতিবিদদের হুন্ডা আর গুন্ডা বাহিনী পরিহার করতে হবে। তার এ কথার জন্য আমি এসপিকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ হুন্ডা, গুন্ডা দিয়ে রাজনীতি চলে না। রাজনীতি হবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের। একশ্রেণির রাজনীতিবিদ, ক্যাডাররা আমার কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ড শুরু করেছে। খোকার এ কর্মকান্ডের জন্য আমি নিন্দা জানাচ্ছি।’

আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, আমি লিয়াকত হোসেন খোকাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। খোকাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘তুমি ভুল করেছো এবং সেই ভুলের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। আমি খোকাকে অভিশাপ দিচ্ছি না বা খারাপ কিছু বলছি না। তার কৃতকর্মের জন্য একদিন তার সংশোধনের সময় আসবে। অনেকেই আমার সঙ্গে বেয়াদবি করে আবার বাসায় গিয়ে পা ধরে ক্ষমাও চায়। আমি বিশ্বাস করি, ক্ষমাই পরম ধর্ম। তাই আমি খোকাকে ক্ষমা করে দিলাম। আমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নাই। কখনও অনুশোচনা হলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ো।’

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জের এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগানোর চেষ্টা করেছি। সব উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নে কাজ করছি। এই কাজের সোনারগাঁ জিআর ইনস্টিটিউশনে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলাম। সেই নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনের জন্য আমার নামফলক লাগানো হয়েছিল। কিন্তু খোকা সাহেব ঈর্ষান্বিত হয়ে এ রকম ঘটনা ঘটিয়েছে।’

আরো পড়ুন :নারায়ণগঞ্জে আয়কর মেলায় রিটার্ণ দাখিল ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে

তিনি বলেন, ‘১৭ নভেম্বর একটি দুঃখজনক ঘটনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৭ তারিখ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত এই কয়েকদিনে এই প্রসঙ্গে আমি মুখ খুলিনি। এই ঘটনার প্রতিবাদে ঝড় উঠেছে সোনারগাঁ উপজেলার তৃণমূল নেতৃবৃন্দের মধ্যে। যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে, যারা শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ডে বিশ্বাসী, যারা আমাকে ভালোবাসে তারাই এ ঘটনার প্রতিবাদে ঝড় উঠিয়েছে। একমাত্র যারা সম্পৃক্ত ছিল না এবং যারা জাতীয় পার্টির নেপথ্যে সমর্থন দেয় তারা ব্যাতীত সকলে সমর্থন দিয়েছিল। কারণ তারা জানে, আনোয়ার হোসেন একজন সাচ্চা কর্মী, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী।’

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সেদিন মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ করা হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জের যারা আমাকে ভালোবাসে তারাই প্রতিবাদ করেছিল। জেলা আওয়ামী লীগ এ ঘটনায় প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাতে পারেনি বলে আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারলাম না। এজন্য আমি দুঃখিত। সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ আহ্বায়ক কমিটি যারা নেতৃত্ব দেয় তাদেরকেও আমি কৃতজ্ঞতা জানাতে পারলাম না। কারণ এ রকম ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ তারা করেনি।’

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, মো. আলাউদ্দিন, মাহবুবুর রহমান রোমান, ফারুক হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়ালীউল্লাহ, উপসহকারী প্রকৌশলী কাঞ্চন কুমার পালিত, প্রশাসনিক কর্মকর্তা কে এম রাশেদুজ্জামান, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম, উচ্চমান সহকারী মীর মাহমুদা খানম, নমিতা মল্লিক, সার্ভেয়ার রকিবুল হাসান, অফিস সহকারী মিলন হোসেন, হারুন অর রশিদ, কম্পিউটার অপারেটর হারুন প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত সকলে কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

আরো পড়ুন :নারায়ণগঞ্জে ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ ২৬১ আক্রান্ত ৩০

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart