1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন

এমপি খোকার নির্দেশে নাম ফলক ভেঙ্গেছে : আনোয়ার হোসেন

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৫৩
এমপি খোকার নির্দেশে নাম ফলক ভেঙ্গেছে : আনোয়ার হোসেন

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের সাংসদ ও জাতীয় পার্টি যুগ্ন মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরের পর সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে। নাম ফলকে লেখা ছিল ‘জি আর ইনস্টিটিউশনের মেইন গেইট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন আলহাজ্ব মো: আনোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ’। গত ২৫ সেপ্টেস্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুল ফটকটি উদ্বোধন করছিলেন।

বুধবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি কাজটির উদ্বোধন করেছি বলে হিংসায় এমপি খোকা নিজে উপস্থিত থেকে এবং তার নির্দেশে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি বিষয়টি সর্বমহলে জানিয়েছি।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজে প্রবেশের সময় স্কুলের মূল ফটকের পাশে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নাম দেখে বেশ রাগান্বিত হন। এসময় উপস্থিত শিক্ষকদের উপর চটে যান। আর আনোয়ার হোসেনের নাম কেন লেখা হয়েছে সেটা জানতে চান। আশেপাশের অনেক লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে নাম ফলকটি হাটুড়ি দিয়ে ভেঙ্গে ফেলা হয়।
সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুলতান বলেন, এমপি সাহেব স্কুলে এসে করোনাকালীন সময়ে যাতে শিক্ষার্থীদের কাছে কম টাকা রাখা হয় এটা গভর্নিংবডির কাছে জানানোর কথা বলেন। পরে স্কুলের গেটের পাশে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নামের ফলক দেখে তিনি বেশ রাগান্বিত হয়ে উঠেন। এসময় তিনি আমাকে অনেক ধমকা ধমকি করেছেন।
এক পর্যায়ে তিনি ধমক দিয়ে বলেছেন, নাম ফলক (জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন) এখন ভাঙেন। রাজস্ব খাতের টাকায় নাকি স্কুলের গেইট নির্মিত হয়েছে। তাই তিনি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।

স্কুলের গভর্নিংবডির সভাপতি ফারুক ভূইয়া বলেন, আমার এক আত্মীয় মারা গিয়েছে। একারণে আমি ব্যস্ত ছিলাম। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নামের ফলক ভেঙে দেয়ার কথা আমি শুনেছি। তবে এই কাজটা খুব খারাপ হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সোনারগাঁও জি আর ইনিষ্টিটিউশনের সভাপতি জেলা পরিষদের সদস্য ফারুক হোসেন। পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থির মধ্যে পোষ্টারে ছবি দেয়া নিয়ে দ্বন্ধ। ওই দ্বন্ধের জেরে ফারুক হোসনকে হেয় করতে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, জিআর ইন্সটিটিউটের স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি হচ্ছেন আমাদের জেলা পরিষদের সদস্য ফারুক হোসেন। সে জিআর ইন্সটিটিউটের স্কুলের গেইট ও দেয়াল নির্মাণের জন্য একটা বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। আমরা স্থানীয় এমপির সঙ্গে সমন্বয় করে একটা ডিও লেটার দেয়ার জন্য বলেছি তাকে। যথাসময়ে ডিও লেটারও আমরা পেয়েছি। ২০ লাখ টাকার অনুদান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ওই কাজের জন্য। এটা এডিবির ফান্ড থেকে দেয়া হয়।
আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) স্থানীয় জাতীয় পাটির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা জিআর ইন্সটিটিউটের স্কুলে কোন একটা কারণে গিয়েছিল। পরে স্কুল থেকে বের হওয়ার সময় নাম ফলকে আমার (আনোয়ার হোসেন) নাম দেখে সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এবং আমার নাম ধরে গালমন্দও করেছে। এক পর্যায়ে তার নির্দেশে হাতুড়ি দিয়ে নামফলক ভেঙ্গে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, জেলা পরিষদের নির্মিত একটা স্থাপনা এটা। সে (এমপি খাকা) এলাকার এমপি। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নাম ফলকে থাকাটাই স্বাভাবিক। শুধু এখানে নয় রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, বন্দরসহ জেলা পরিষদের বিভিন্ন এলাকায় আমার নামে নাম ফলক রয়েছে। সেখানে তো কোন সমস্যা হয়নি। শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান, গোলাম দস্তগীর গাজী ও নজরুল ইসলাম বাবুও কোন হস্তক্ষেপ করেনি। এখানে (জিআর ইন্সটিটিউটের স্কুল) তার (এমপি খোকা) যদি কোন আপত্তি থাকতো বা আমাদের কোন অনিময় থাকতো তাহলে সে যথাযথভাবে আমাদের জানাতে পারতো। কিন্তু সে আইনের মানুষ (আইন প্রনেতা) হয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় তার এমন বেআইনী কাজ করাটা ঠিক হয়েছে কি না আমি জানি না। তবে আমি সর্বমহলে বিষয়টি অবহিত করেছি।
এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন এমপি সাহেবের বড় বোন মারা গেছেন। তিনি শোকাহত।

আরো পড়ুন

নারায়ণগঞ্জে আরেক ধাপ বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা, ২৪ ঘন্টায় ৪৮ জন

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart