1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

ফতুল্লায় ছোট বোনকে ধর্ষণে বাধা দেয়ায় বড় বোনকে কুপিয়েছে কিশোর গ্যাং

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ২০৫

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কিশোরগ্যাংয়ে কবল থেকে ছোট বোনকে বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে গার্মেন্টকর্মী বড় বোন লাবনী আক্তার আহত হয়েছে। গত রোববার রাতে ফতুল্লার শিহাচর শাহজাহান রোলিং মিল এলাকায় মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থানায় জিডি করায় সোমবার রাতেও কয়েক দফা হামলা চালায় কিশোরগ্যাংয়ের সদস্যরা। পরে এ ঘটনায় আহত লাবনীর মা সেলিনা বেগম বাদি হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আর ৪-৫ জনকে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ছুরিকাঘাতে আহত গার্মেন্টকর্মী লাবনীকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সোমবার রাতে বাসায় ফেরেন লাবনী।
তবে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের দাবি, যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের সঙ্গে ভিকটিমের ছোট বোনের পূর্ব পরিচয় ছিল। কোন কিছু নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরেই ওই ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন সিদ্ধিরগঞ্জে কিশোরী আপন দুই বোনকে ধর্ষণ, মূলহোতা আটক

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হারেজ-সেলিনা বেগম দম্পত্তি ৩ মেয়ে ২ ছেলে নিয়ে মনির মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাদের মধ্যে বড় মেয়ে লাবনী ও খলিল নামে আরেক ছেলের উপার্জনে তাদের ৭ জনের সংসার চলে। এই পরিবারের ছোট মেয়ে লাকীকে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার জীবন (১৬) ও লাদেন (১৭) নানা ভাবে উত্যক্ত করে আসছে। প্রায়ই তারা তাকে কুপ্রস্তাব দিতো। ঘটনাটি এলাকাবাসী জানলেও কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ে কিছু বলতে পারতেন না।
আহত লাবনী জানান, রোববার রাত সাড়ে ৯টায় জীবন ও লাদেনসহ প্রায় ১০-১৫ জন কিশোর বয়সের ছেলে আমাদের বাসায় আসে। তারা সবাই এলাকায় কিশোর অপরাধী হিসেবে পরিচিত। তারা যখন আমাদের বাসায় আসে এর কিছুক্ষণ আগে আমি গার্মেন্ট থেকে বাসায় এসেছি। তারা আমাদের ঘরে প্রবেশ করেই প্রথমে জীবন আমার বোন লাকিকে জড়িয়ে ধরে খাটে ফেলে দেয়। তখন আমি চিৎকার করে জীবনকে ধাক্কা দিয়ে লাকিকে জড়িয়ে ধরি। ওই সময় তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর লাকিকে টেনে হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন আবারো আমি তাদের সামনে গিয়ে দাড়ালে জীবন আমার পেটে কয়েকটি ছুরিকাঘাত করে দলবল নিয়ে চলে যায়। ওই সময় আমার মা বোন ও ছোট ভাইসহ আশপাশের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ দেড়শ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একদিন চিকিৎসা নিয়ে সোমবার রাতে বাড়ি ফিরে আসি।
লাবনী আরো জানান, ওই ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ে থানায় গিয়ে তথ্য গোপন করে মামলা না করে একটি জিডি করেছি। জিডির বিষয়টি জীবন ও তার লোকজন জানতে পেরে সোমবার রাতে কয়েক দফা আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে টিনের ঘর ও দরজা জানালা কুপিয়ে জিডি উঠানের হুমকি দিয়ে চলে যায়। জিডি না উঠালে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
লাবনীর মা সেলিনা বেগম বলেন, আমরা গরিব আর সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টারে চলে। আমরা তাদের সঙ্গে কিছুতেই পারবো না। এলাকাবাসী শুনেও ভয়ে কোন প্রতিবাদ করেনি। যদি বিচার না পাই তাহলে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা চলে যাবো।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, ওই ঘটনায় প্রথমে ভুক্তভোগীর পরিবার প্রকৃত ঘটনা গোপন করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেছে। পরে সোমবার রাতে আবারও ওই বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটলে পরিবারটির পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের দুটি টিম আসামীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। শিগগিরই অপরাধীদের গ্রেপ্তার সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

 

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart