1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন

হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলা দেয়া যুবক ৬ বছর পর জীবিত হাজির

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৫৫০

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে মামুন নামে এক যুকককে অপহরণ করে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার অভিযোগে তাসলিমা, তার বাবা, ৩ ভাই ও মামা কারাবন্দী হয়। অথচ  ৬ বছর পর সেই মামুন নিজেই অক্ষত অবস্থায়  হাজির হয় আদালত পাড়ায়। এ সময় বিবাদী পক্ষের লোকজন তার উপর হামলা চালায়। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর)  দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায়।

স্কুল ছাত্রী জিসা মনি কান্ডের রেষ না কাটতেই একই ধরনের আরেকটি ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়লো।

পুলিশ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, অপহৃত যুবক মামুনকে হত্যার পর লাশ গুম করে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দিয়েছে। আর সিআইডি তাদের দেওয়া চার্জশীটে বলেছেন, ওই যুবককে অপহরণ করা হয়েছে। এসব কারণে গত ৪ বছর ধরেই মামলার আসামী হয়ে বিভিন্ন সময়ে কারাভোগ ও রিমান্ডের শিকার হয়েছেন ৬জন। মামলাটির বিচার কাজও সম্পন্নের পথে ছিল।

এ অবস্থায় ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় কথিত অপহৃত হাজির হলে দেখা দেয় চাঞ্চল্য। ওই সময়ে বিবাদী পক্ষের লোকজন ক্ষেপে গিয়ে বাদী পক্ষের উপর হামলা করেছেন। আর এতে কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ মামলার বিষয়ে সঠিকভাবে তদন্ত না করে আসামীদেরকে গ্রেফতার করে অমানষিকভাবে নির্যাতন নিপীড়ন করে জোর করে জবানবন্দী নেয়ার চেষ্টা করেছে। সেই সাথে কোনো রকম তদন্ত রিপোর্ট দিয়েই আসামীদের দোষী সাব্যস্ত করে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করার প্রক্রিয়াধীন ছিল। এরই মধ্যে ভিকটিম আদালতে হাজির হয়ে যান। একই সাথে মামলার নতুন মোড় নেয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১০ মে মামুন অপহরণ হয়েছে অভিযোগ এনে দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৯ মে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন বাবা আবুল কালাম। ওই মামলায় ৬ জনকে বিবাদী করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামুনকে অপহরণের পর গুমের অভিযোগ করা হয়েছিল। মামলাটি প্রথমে পুলিশ ও পরে সিআইডি তদন্ত করে।

আসামী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট এমদাদ হোসেন সোহেল জানান,  মামলায় বাদী আবুল কালাম উল্লেখ করেন তাসলিমা আক্তারের সাথে তার ছেলে মামুনের প্রেম ছিল। তাসলিমা ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় তার খালা আমেনা বেগমের বাসায় থেকে স্থানীয় একটি গার্মেন্ট এ কাজ করে।  প্রেমের সূত্র ধরে ২০১৪ সালের ১০ মে  তাসলিমা  মামুন কে ডেকে ফতুল্লা লামাপাড়ায় তার খালা আমেনার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর তাকে আটকে রেখে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়। এই ঘটনায় মামুনের বাবা আবুল কালাম দুই বছর পর ২০১৬ সালের ২৩ মে ফতুল্লা মডেল থানায়  ৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা  দায়ের করে। মামলায় আসামিরা হলো তাসলিমা, তার বাবা রহমত উল্লাহ, ভাই রফিক, মামাতো  দুইভাই সাগর ও সোহেল এবং মামা সাত্তার মোল্লা।

তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত সংস্থা আসামীদের একাধিকবার রিমান্ডে নিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেস্টা করে। কিন্তু নির্যাতনের মুখেও তারা স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হয়নি। পরে ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়। এরমধ্যে এক মাস জেল খাটার পর ৪ জনকে জামিন করাই। আর ১ বছর ২ মাস জেল খাটার পর তাসলিমা ও ১ বছর ৩ মাস জেল খাটার পর তার ভাই রফিকের জানিন করাই উচ্চ আদালত থেকে।

 তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ৪ বছর পর মামলাটির বিচার নিষ্পত্তির জন্য সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে আসে। এই মামলাতে জামিন নেওয়ার জন্য আমি আদালতে উপস্থিত হই। পরে গিয়ে দেখি যাকে অপহরণ ও গুম করার অভিযোগে মামলাটি হয়েছে সেই ভিক্টিম আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়েছেন।

মামলার আসামি তাসলিমা বলেন, মামুন আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। আমি রাজি হই নাই।   সে আমাকে প্রায় সময়ই বিরক্ত করতো। সাইফুল নামে একজনের সাথে আমার বিয়ে হয়। আমি আমার ছোট খালার বাসায় থেকে চাকরী করছিলাম। পরে শুনি  আমার বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দেওয়া হইছে। এর আগে মামুনকে প্রেমের জালে ফাঁসাইছি বইলা আমাকে নির্যাতনও করছিল মামুনের পরিবারের লোকজন।

এডভাকেট এমদাদ হোসেন  ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিআইডি পুলিশ সঠিক তদন্ত না করে আসামীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চার্জশিট দিয়েছে। নিরপরাধ মানুষগুলোকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করেছে। নিরপরাধ মানুষগুলো জেল খেটেছে। আমি মামলার বাদী ও মামলার তদন্তকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি। যাতে পুলিশের সুনাম নস্ট করতে আর কোন পুলিশ  মিথ্যা তদন্ত না করে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড: মো. শেখ ফরিদ জানান, আমার মক্কেল কাউকে আসামী করে মামলা করেননি। একটি অজ্ঞাতনামা মামলা করেছিলেন। কিন্তু পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামী হিসেবে তাদের নাম যোগ করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন ছিল। এরই মধ্যে ভিকটিম ফিরে আসেন এবং আমরা তাকে নিয়ে আদালতে হাজির। আদালত ভিকটিমকে আমার জিম্মায় দিয়েছেন।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart