1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

‘রাজনীতি চুক্তি ভিত্তিক কোনো খেলা নয়’

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২০৯

মনিরুজ্জামান মনির। প্রথম আলোর সোনারগাঁওয়ের নিজস্ব প্রতিবেদক। সোনারগাঁয়ের একজন পেশাদার সাংবাদকর্মী তিনি। সোনারগাঁয়ের রাজনীতি থেকে শুরু করে অনেক কিছুই তার নজরে। সমসাময়িক নানা বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে সরব থাকেন।  তেমনি ১১ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁয়ের রাজনীতি নিয়ে তিনি একটি দীর্ঘ  স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি বিশ্লেষন করেছেন বিশেষ করে বিএনপির অতীত ও বর্তমান রাজনীতি। তার সেই স্ট্যাটাসটি এখানে হুবহ তুলে ধরা হলো-

সোনারগাঁ পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান একাদশ সংসদের বিরোধী দলে কয়েকদিন পর পর যোগ দিচ্ছেন এক সময়ের সোনারগাঁয়ের দাপটে নেতার ঘনিষ্ঠরা। রেজাউল করিম ৯১, ৯৬ ও ২০০১ সালের পঞ্চম, সপ্তম ও অষ্টম সংসদে পর পর তিনবার বিজয়ী বিএনপি দলীয় সাংসদ ছিলেন। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ নেতারা সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি ত্যাগ করে হঠাৎ কেন বিরোধী দলে যোগ দিচ্ছেন? এই প্রশ্ন এখন সোনারগাঁয়ের সর্বত্র।

সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতাদের অন্দর মহলের খোঁজখবর রাখেন এমন নেতাদের ভাষ্যমতে, সোনারগাঁয়ে হঠাৎ এমন কি ঘটনা ঘটল যার কারণে রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠদের ধারাবাহিকভাবে বিএনপি ছেড়ে বিরোধী দলে যেতে হচ্ছে? বর্তমান তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সোনারগাঁয়ে কোনো রাজনৈতিক মামলা মোকদ্দমা হয়নি। রাজনৈতিকভাবে মামলার ঘটনা ঘটেছিল ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে। অনেকেই বলেন, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে একেক জনের নামে তখন ১৫/২০টি করে রাজনৈতিক হয়রানিমুলক মামলা হয়েছে, সামনের দিনগুলোতে আরো রাজনৈতিক মামলা হতে পারে এ কারণে তারা মামলা থেকে বাঁচতে, আবার অনেকে দল বদল করে সামনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে জয়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আবার অনেকে ক্ষমতার স্বাদ নিতে দল বদল করছেন কি?

আমাদের মনে আছে, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মামলা হামলার ভয়ে প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিমের হাতে ফুল দিয়ে অনেকেই আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে গিয়ে ক্ষমতার স্বাদ নিয়েছিলেন তারা নির্বাচনের ঠিক আগ মুহুর্তে আবার আওয়ামী লীগে ফিরে গিয়ে বলেছিলেন, “হামলা মামলার ভয়ে আমরা বিএনপিতে গিয়েছিলাম, ঘরের ছেলে আবার ঘরে ফিরে এসেছি!” এই কাতারে তখন পৌরসভা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতিও ছিলেন। পরে তিনি আবার নিজের পূর্বের ঘরে ফিরে গিয়েছিলেন।

এ যেন ভোজবাজীর খেলা! চোখের পলকে নীতি আদর্শ পাল্টে যায়। বদলে যায় রাজনৈতিক গন্তব্য। শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থানও বদলে যায়। ফুলের তোড়া হাতে সারা জীবন যারা গিয়েছিলেন ক্রিসেন্ট লেকের উত্তর পাড়ে তারা এবার ১৫ আগষ্টে ছুটেছেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে। কতিপয় রাজনৈতিক নেতা যেন লজ্জাসরমের মাথা খেয়েই পক্ষ বদল করেছেন। কেউ কেউ আজীবন যে নীতি আদর্শের অনুসারী ছিলেন এবং যে আদর্শের বাণী প্রচার করতেন তিনি এবার গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন সে আদর্শের একেবারে বিপরীত মেরুতে। যারা দল বদল করেন তাদের আত্মস্বার্থই মুখ্য। দেশ ও জাতির স্বার্থ এখানে একেবারেই গৌন।

সত্তর এবং আশির দশক ছিলো বাংলাদেশের ফুটবলের স্বর্ণযুগ। খেলা বলতে তখন সবাই ফুটবলকেই বুঝতো। সে সময় ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও আবাহনী ক্রীড়া চক্রের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। এই দুই দলের খেলার দিন ঢাকা স্টেডিয়ামে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম) তিল ধারণের জায়গা থাকতো না। তো ওই সময় যখন খেলোয়াড়দের দল বদলের প্রক্রিয়া শুরু হতো, তখন সবাই উৎসুক থাকতেন কোন খেলোয়াড় কোন ক্লাবে যাচ্ছে তা জানার জন্য। কোন খেলোয়াড়ের দাম সবচেয়ে বেশি উঠলো তাও থাকতো আলোচনায়। সালাম মুর্শেদী, বাদল রায়, কায়সার হামিদ, ফজলু কে কোন ক্লাবে যাচ্ছে, কাকে কোন ক্লাব কত অফার করেছে এসব নিয়ে অলোচনা তর্ক-বিতর্ক হতো। এখন ঢাকাই ফুটবলের সে অবস্থা নেই। তার জায়গা দখল করেছে ক্রিকেট। অবশ্য আজকালকার তরুণরা দেশীয় না হলেও বিদেশি ফুটবল বেশ উপভোগ করে। ইংলিশ কিংবা স্প্যানিশ লীগের কোন টিমের কোন খেলোয়াড় কোন টিমে গেল তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে তারা মুহূর্তেই জেনে যাচ্ছে।

যাক, ফুটবল-ক্রিকেট খেলোয়াড়দের দল বদল এ লেখার আসল উদ্দেশ্য নয়। খেলোয়াড়দের দল বদল একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। তারা টাকার জন্য একটি দলে চুক্তিবদ্ধ হয় এক মৌসুমের জন্য। পরের মৌসুমে যে ক্লাব টাকা বেশি দেয় তারা সে ক্লাবের জার্সি গায়ে চড়িয়ে মাঠে নামে। এখানে আদর্শ বা কমিটমেন্টের কোনো গুরুত্ব নেই। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে যখন ক্লাবের মতো দল বদলের ঘটনা ঘটে, তখন সচেতন মানুষদের চিন্তা হয় সঙ্গত কারণেই। কেননা, রাজনীতি এক মৌসুম বা এক বছরের চুক্তি ভিত্তিক কোনো খেলা নয়। এখানে প্রধান বিষয় নীতি-আদর্শ।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2018narayanganjtimes
Customized By NewsSmart