1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

বানরের লাঠি, ডাকাতের ছুরি ফেসবুক এবং ইউটিউব

সাফাত জামান, নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২০৬
আগেই ক্ষমা চেয়ে নিলাম। সব ফেসবুক ও ইউটিউব ব্যবহারকারী এক নয়। ভালো ব্যবহারকারী যেমনি আছে, ঠিক বিপরীতে মন্দ ব্যবহারকারীও রয়েছে। মানুষের মনের ভাব আদান-প্রদান, দূরে বসবাসকারী স্বজনদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে, নিজস্ব স্মৃতি ধরে রাখতে, তা ভদ্রসমাজে প্রচার করতে বেশির ভাগ মানুষ ফেসবুক-ইউটিউব ব্যবহার করেন। এতে খারাপ কিছুই দেখি না। আবার অনেকে দেশের নানা প্রান্তের অসহায় মানুষের ওপর সবলদের অত্যাচার-নির্যাতনের ছবি, ভিডিও ফেসবুকে প্রচার করেন। এতে বলা যায় সমাজের অনেক উপকারই করেন তারা। বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির খোলা দুনিয়ায়- ফেসবুক অনেক ক্ষেত্রে সমাজের উপকারই করছে। তবে একটি কথা না বললেই নয়। বহুক্ষেত্রে ফেসবুক-ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো হয়ে উঠেছে বানরের হাতে লাঠি ও ডাকাতের হাতে থাকা ছুরির মতোই। বানরের হাতে লাঠি থাকলে কি হয়  তা বলে বোঝানোর দরকার হয় না। অপরদিকে একটি ছুরি যখন ডাক্তারের কাজে ব্যবহার করা হয়, সেটা হয়ে ওঠে জীবন রক্ষার হাতিয়ার, আবার সেই ছুরি যখন ওঠে ডাকাতের হাতে, তখন সেটি বড্ড ভয়ঙ্কর। বেশ কয়েক বছর আগের একটি ঘটনা বলি, তখন ফেসবুক-ইউটিউব আসেনি। একটি জেলা শহরে চাচা-ভাতিজার বিরোধ ছিল জমি নিয়ে। ভাতিজা ছিলেন স্থানীয় একটি পত্রিকার মালিক-সম্পাদক। একদিন সাংবাদিক ভাতিজা তার নিজ পত্রিকায় চাচার বিরুদ্ধে একটি রিপোর্ট লিখলেন, মিথ্যে-বানোয়াট রিপোর্ট। তাতে লিখলেন, চাচার সঙ্গে তার নিজের মেয়ের খারাপ সম্পর্ক রয়েছে। ভাতিজার এই মিথ্যে রিপোর্ট নিয়ে চাচা জেলা প্রশাসকের কাছে গেলেন। বিচার চাইলেন প্রশাসকের নিকট। বিচার তিনি পাননি। এমন গ্লানি সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত চাচা জেলা প্রশাসকের অফিসের সামনেই নিজের কাছে রাখা বোতলের বিষ পান করে আÍহত্যা করলেন। সেই ঘটনাটা আজও ভুলতে পারি না। সে রকম ঘটনা এখন ঘটছে আরো বেশি মাত্রায়-সহজলভ্য ফোন, ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউবের কারণে। বর্তমান সময়ে এক শ্রেণির ফেসবুক ব্যবহারকারী, কেউ ইচ্ছে করে, কেউ শত্র“তার বশে আবার কেউ কেউ পয়সার বিনিময়ে ফেসবুক ও ইউটিউবে বহু শ্রদ্ধেয় ও সম্মানিত মানুষের চরিত্র হনন করে চলেছে। এদের কারো কারো গায়ে আবার সাঁটানো রয়েছে সাংবাদিকতার লেভেল। হাল সময়ে কিছু পতিত সাংবাদিক যাদের কোনো পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলে চাকরি নেই। দুস্ককর্মের কারণে চাকরি হারিয়েছেন, সমাজে তাদের মুখোশ উম্মোচিত হয়ে গেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের চাকরি দেয় না। এ শ্রেণির পতিত কিছু সাংবাদিক এখন ফেসবুক ও ইউটিউবকে আকড়ে ধরে ধান্ধাবাজিকে জীবিকা হিসেবে নিয়েছেন। তাদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ বহু মানুষ, নালিশ দেওয়ার জায়গা পাচ্ছেন না।
আরও পড়ুন

‘এটাই তো পরম পাওয়া’

দু’দিন আগে দেখা হলো ঢাকা শহরের একজন নামকরা ভদ্রলোকের সঙ্গে। একটি খ্যাতিমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। নিজের পরিশ্রম দিয়ে প্রায় শূন্য থেকে তিলে তিলে প্রতিষ্ঠানটি তিনি গড়ে তুলেছেন। ভদ্রলোক বলছিলেন তার বেদনার কথা। এক সময়ে টিভি চ্যানেলের পরিচিত মুখ ছিলেন এক ভদ্রলোক, যা হোক ভদ্রলোকই বললাম। এখন কোনো টিভি চ্যানেলে নেই। বলা যায় পরিত্যাক্ত, পতিত ওই সাংবাদিক এখন জীবিকার জন্য আণ্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার মতো একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে বসেছেন। ওই পতিত সাংবাদিক সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিককে নিয়মিত খবর পাঠান, তাকে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে, না হলে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে ইউটিব চ্যানেলে রিপোর্ট প্রচার করবেন। কি রিপোর্ট করবেন, কি রিপোর্ট তৈরি করবেন, বানাবেন? প্রচারিত রিপোর্টের সত্য-মিথ্যে যাচাই-বাছাই করার আগেই বহুক্ষতি হয়ে যাবে লোকটার। এটা ঠিক আমাদের দেশে এখন অনেকেই রিপোর্ট তৈরি করেন, রিপোর্ট বানান। সাধারণ মানুষ সেটাই গ্রহণ করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিক ভদ্রলোক এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না, প্রতিকারের জন্য কার কাছে যাবেন। কিভাবে তিনি পরিত্রাণ পাবেন? হয় তো শেষ পর্যন্ত ওই পতিত সাংবাদিকের হাতে পাঁচ লাখ টাকা তুলে দিয়ে সম্মান রক্ষা করতে হবে তাকে।
তাই বলছিলাম ফেসবুক ও ইউটিউব নামে বানরের হাতের লাঠি ও ডাকাতের হাতের ছুরি কেড়ে নেয়া একান্ত দরকার।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart