1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

নাজমার জীবনযুদ্ধ, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও নাহিদা বারিক

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩০৭

নাজমা আক্তার। দিনরাত সেলাই কাজ করেন। সামান্য আয় দিয়ে ৭ সদস্যের সংসারের ঘানি টানছেন। ওপেনহার্ট সার্জারীর পর স্বামী শয্যাশায়ী। দীর্ঘ চার বছর সংসারের বোঝা টানতে গিয়ে রীতিমত হাফিয়ে উঠেছেন নাজমা আক্তার। কিন্তু মেধাবী মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার ক্লান্ত শরীর থামতে চায় না। তিনি যদি থেমে যান তাহলে থেমে যাবে সন্তানদের লেখা-পড়া আর তিনবেলা খাবার। মোটকথা জীবনের সঙ্গে প্রতিদিন যুদ্ধ করে চলেছেন তিনি। এরই মধ্যে মেধাবী এক মেয়ের কলেজের ভর্তির সময় সন্নিকটে চলে আসে। হাতে টাকা নেই। দুই রাত জেগে কাপড় সেলাই করেন তিনি। কিন্তু তাতে মেয়ের কলেজে ভর্তির টাকা যোগাড় হয়নি। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নাজমা আক্তার। কিভাবে মেয়েকে ভর্তি করাবেন দিকবিদিক ছুটোছুটি শুরু হয় তার। এক পর্যায়ে তার মেয়ের পরামর্শে মেয়েকে নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর নাজমা আক্তার হাজির হয় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার নাহিদা বারিকের দপ্তরে। অফিশিয়াল কাজে ইউএনও বাহিরে ছিলেন। অপেক্ষা করতে থাকেন নাজমা আক্তার। এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় অফিসে আসেন ইউএনও। বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস সময় শেষ হলেও সেদিন নাহিদা বারিক রাত ১০টা পর্যন্ত অফিস করেন। ফলে নাজমা আক্তার ইউএনওর সাক্ষাত পেয়ে যান। সব শুনে ইউএনও নাহিদা বারিক তার মেয়েকে কলেজে ভর্তির দায়িত্ব নেন। এতে আবেগে কেঁদে ফেলেন নাজমা আক্তার।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ছিল নাজমা আক্তারের মেয়ে সুমাইয়া সুলতানার ভর্তির শেষ সময়। নারায়ণগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজে বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হওয়ার পর ইউএনওর কাছে কতৃজ্ঞতা প্রকাশ করতে মেয়েকে নিয়ে তার দপ্তরে যান নাজমা আক্তার। এসময় এই প্রতিবেদকের উপস্থিতিতে নাজমা আক্তার বলেন, আপা আপনি টাকা না দিলে আমার মেয়ে কলেজে ভর্তি হতে পারতো না। তার লেখা-পড়া হয়তো এখানেই বন্ধ হয়ে যেতো। কত কস্ট করেছি। দিনরাত কাজ করেও মেয়ের কলেজে ভর্তির পুরো টাকা যোগাড় করতে পারি নাই।
এসময় ইউএনও নাহিদা বারিক বলেন, আপনার মেয়েটা মেধাবী। আমি তার সার্টিফিকেটগুলো দেখেছি। এমন একটি মেধাবী মেয়ের লেখা-পড়া বন্ধ হয়ে যাবে এটা আমি কখনও হতে দিবো না। শুধু আপনার মেয়ে বলে নয়, টাকার অভাবে কারো লেখা-পড়া বন্ধ হয়ে যাবে আমি সাধ্য মতো তাদের পাশে দাঁড়াবো। এক পর্যায়ে নাহিদা বারিক মেয়েটিকে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার দিয়ে বলেন তুমি যে কোন প্রয়োজনে আমাকে ফোন দিবা। আমি তোমাকে হেল্প করবো। এছাড়াও তিনি নাজমা আক্তারকে একটি সেলাই মেশিন দিবেন বলেও জানিয়েছেন।
নাজমা আক্তার এ প্রতিবেদককে জানান, তার স্বামী জাহাঙ্গীল আলম কাতার প্রবাসী ছিলেন। আমাদের আর্থিক অবস্থাও আল্লাহর রহমতে ভালোই ছিল। ৫ মেয়েকে নিয়ে আমাদের সংসার। ভালো চলছিল সবকিছু। কিন্তু কাতারে আমার স্বামীর ওপেনহার্ট সার্জারি হওয়ার পর দেশে চলে আসেন। এরমধ্যে চোখে সমস্যা দেখা দেয়। উন্নত চিকিৎসার অভাবে ধীরে ধীরে সে আরও অসুস্থ হয়ে যায়। কোন কাজ করতে পারে না। গত ৪ বছর ধরে আমিই কোনমতে মেয়েদের লেখা-পড়া ও সংসারটা চালিয়ে নিচ্ছি। এবার ঈদের সময় একদিকে করোনা ও অন্যদিকে জলাবদ্ধতার পানির কারণে মানুষ তেমন একটা কাজ দেয় নাই। মাত্র ৫০ টাকায়ও কাপড় সেলাই করেছি। তাও বেশী কাজ পাই নাই। কোরবানীর ঈদের আগের দিন আমার হাতে মাত্র ১৩০ টাকা ছিল। রাত পোহালেই ঈদ। এই সামান্য টাকা দিয়ে কি করবো। কি কিনবো। মেয়েদের মুখে একটু সেমাইও দিতে পারি নাই। করোনাকালীন সময়ে দুইবার ত্রাণ সহায়তা পেয়েছেন বলে জানান নাজমা বেগম।
তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ে সুমাইয়া সুলতানা ক্লাস ফাইভে জিপিএ-৫ এবং ক্লাস এইটে গোল্ডেন জিপি পায়। এতে তার বৃত্তির টাকা দিয়েই তার লেখা-পড়া চলে আসছিল। এক পর্যায়ে ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতেও সে গোল্ডেন জিপিএ পায়। আমার অত্যন্ত মেধাবী। সে অনেক দুর পর্যন্ত পড়তে চায়। জানি না আল্লাহ তার আশা পুরন করবে কি না। সুমাইয়া সুলতানা ৫ বোনের মধ্যে তৃতীয়। ফতুল্লার কুতুবপুর তক্কার মাঠ এলাকায় থাকেন নাজমা আক্তার।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2018narayanganjtimes
Customized By NewsSmart