1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

জিসা মনি কান্ডে ওসিকে বহাল রেখে পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ তদন্ত

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩৫৪

নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুল ছাত্রীর লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার ৪৯ দিন পর জীবিত ফেরত আসার ঘটনায় বেকাদায় পড়েছে পুলিশ। ইতমধ্যে পুলিশের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটির মধ্যে একটি কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই শামীম আল মামুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলারও প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু নাটকীয় ঘটনার আরেক নায়ক থানার ওসি আসাদুজ্জামান বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তাকে বহাল রেখে পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ তদন্ত চলছে। তাছাড়া নিজেকে রক্ষায় বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ করছেন ওসি আসাদুজ্জামান। তবে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেছেন, এই ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে ওসির গাফিলতি থাকলে এবং সে বিষয়টি যদি প্রমাণ হয় তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কথিত গল্পে ফাঁসিয়ে দেয়া তিন আসামীর আইনজীবী ও তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন, ওসির পরামর্শ ও আলোচনার মাধ্যমেই জিসা মনি অপহরণ মামলায় তিন আসামী আদালতে স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দোষী হয়ে থাকলে তার চেয়ে বেশি দোষী ওসি আসাদুজ্জামান। কারণ তার নির্দেশনা বা অনুমতি ছাড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিছু করেননি। তিনি যা করেছেন ওসির নির্দেশনা ও পরামর্শেই করেছেন। সেখানে এসআইকে বরখাস্ত করে আর ওসি আসাদুজ্জামানকে থানায় বহাল রেখে পুলিশের তদন্ত কমিটির তদন্ত কার্যক্রম পুরোপুরি সঠিক হবে এটা মানতে আমাদের কস্ট হচ্ছে। কারণ জিসামনি কান্ডে কোনভাবেই দায় এড়াতে পারেন না ওসি আসাদুজ্জামান। তাছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আবার পুলিশই তদন্ত করছে, এটাও যুক্তিযুক্ত মনে করেন না তারা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবি মো: রোকন উদ্দিন অভিযোগ করেছেন, মামলার বাদি ও পুলিশ মিথ্যা মামলার নাটক সাজিয়ে নিরপরাধ তিনজনকে আসামি বানিয়ে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন ও জবানবন্দি আদায় করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সোমবার (৩১ আগস্ট) এ মামলার আসামিদের আদালতে হাজির করা হলেও তাদের সাথে তাকে দেখা করতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এমনকি মামলার নথিপত্রও দেখতে দেয়া হচ্ছে না তাকে।
তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, আসামির আইনজীবীকে আসামির সঙ্গে দেখা বা কথা বলতে না দেয়ার মতো ঘটনাই প্রমাণ করে পুলিশ পুরো মামলা ও বিষয়টি নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিতে চাইছে। তিনি বলেন, আইনজীবী তো দূরে থাক আসামির স্বজনদেরও দেখা করতে দেয়নি পুলিশ।
এদিকে আবদুল্লাহ ও রকিব নামের ২ আসামি তাদের জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদনে লিখেছেন- দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিলে আর রিমান্ড হবে না, পুলিশের এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতেই তারা মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য হয়েছেন। আসামির স্বজনরাও অভিযোগ করেছেন, রিমান্ডে মধ্যযুগীয় নির্যাতনেই বাধ্য হয়ে জবানবন্দি দিয়েছিলেন ৩ আসামি।
ওদিকে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে উপস্থিত হয়ে সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান ও মামলার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা (বরখাস্ত) এসআই শামীম আল মামুন জিসা মনিকে অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামির কথিত গণধর্ষণ ও হত্যার জবানবন্দি এবং স্কুলছাত্রীর জীবিত ফেরার ঘটনায় আদালতে
ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এর আগে গত ২৭ আগস্ট আদালত সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেণ আদালত।
ওদিকে মামলার বর্তমান ও সাবেক তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর নথিপত্র নিয়ে হাইকোর্টে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

গত ৪ জুলাই শহরের দেওভোগ এলাকার পোশারক শ্রমিক জাহাঙ্গীরের মেয়ে স্কুল ছাত্রী জিসা মনি (১৫) নিখোঁজ হয়। ১৭ জুলাই তার পরিবার থানায় জিডি করেন। পরে এক মাস পর ৬ আগস্ট একই থানায় স্কুলছাত্রীর বাবা অপহরণ মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ বন্দর উপজেলার বুরুন্ডি খলিলনগর এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২২) ও তার বন্ধু বুরুন্ডি পশ্চিমপাড়া এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে রকিবকে (১৯) ও ৭ আগস্ট বন্দরের একরামপুর ইস্পাহানি এলাকার বাসিন্দা নৌকার মাঝি খলিলকে (৩৬) গ্রেপ্তার করে।
গত ৯ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই শামীম আল মামুন গণমাধ্যমকে জানায়, স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয় আসামিরা। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। অথচ ২৩ আগস্ট দুপুরে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে নিখোঁজ স্কুল ছাত্রী। ফেরার পর ইকবাল পন্ডিত নামে এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে সংসার করছিল বলে জানায় জিসা মনি। পুলিশ অপহরন মামলায় ইকবালকেও গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় চারদিকে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশের তদন্ত ও আদালতে দেওয়া তিন আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
সব মিলিয়ে এক হ-য-র-ল-ব অবস্থায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। এর সাথে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে পুরো জেলা পুলিশ।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart