1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০১:৪৪ অপরাহ্ন

জামিন পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে কিশোরগ্যাং শাকিল বাহিনীর মহড়া, এলাকায় আতংক

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৫৫০

কিশোরগ্যাং রুখতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশ রয়েছে। ইতিমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ড থেকে মাদক ও কিশোরগ্যাং বন্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জেলা পুলিশ সুপার। তারপরও সিদ্ধিরগঞ্জে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। ১৫ থেকে ২২ বছরের উঠতি বয়সের এসব বখাটে ছেলেদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা। মারামারি থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পর চুরি ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড ঘটিয়েই চলেছে তারা। বিশেষ করে নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে কিশোরগ্যাং বেপরোয়া। এই কিশোর গ্যাংদের শেল্টার দিচ্ছেন একাধিক মামলার আসামী ফেন্সী শাকিল। সে পুলিশ কনস্টেবল মফিজ হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী ও এই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ মন্ডলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। সন্ত্রাসী শাকিল একাধিক মামলায় বেশ কয়েকদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও জামিন পেয়ে আবারও সেই পূর্বের চেহারায় ফিরেছে সে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকালে নাসিক ৬নং ওয়ার্ড এলাকায় কিশোরগ্যাং লিডার শাকিল ও ১৪ মামলার আসামী ইয়াবা বাক্কুর নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী মহড়া দিয়েছে। তাঁদের সাথে রয়েছে, গাজা রুবেল, ফেন্সী হুমায়ন, বেয়াদব আবুল, গাজীসহ আরো অনেকে। সুমিলপাড়া মুনলাইট সিনেমাহল এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে এই সন্ত্রাসী বাহিনী। তারা মহড়া দিয়ে এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা আবার এলাকায় ফিরে এসেছে। মামলা বা থানা পুলিশ তাদের কাছে কিছুই না। এর ফলে পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, জেলা পুলিশ সুপারের কঠোরতার পরও কি কিশোরগ্যাং শাকিল বাহিনী বেপরোয়া হয়ে থাকবে। নাকি তাদেরকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ আইনের আওতায় এনে সিদ্ধিরগঞ্জে শান্তি ফিরিয়ে আনবে।
জানা যায় নাসিক ৬নং ওয়ার্ড এলাকায় কিশোরগ্যাং লিডার ফেন্সী শাকিলের নেতৃত্বে উঠতি বয়সের বখে যাওয়া কিছু কিশোর রীতিমতো অপরাধের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে রেখেছে। এলাকায় আদমজী ইপিজেড থাকায় এখানে একটা বিশাল অংশ শ্রমিক শ্রেণির বাস। আর এসব শ্রমিকরাই ঐসব কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান টার্গেট। এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের অভয়াশ্রম গড়ে তুলেছে তারা। নানা এলাকা থেকে নেশাখোররা মাদক কিনতে ও সেবন করতে এখানে এসে থাকে। এতে করে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং উঠতি প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে বলে অভিমত স্থানীয়দের। এরাই সামান্য কারণে ঘটাচ্ছে একের পর এক সংঘর্ষ। যার প্রমান গত ঈদের পর দিন সিগারেট ধরানোকে কেন্দ্র করে ফেন্সী শাকিল বাহিনীর সাথে আ’লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে তিন’দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সিদ্ধিরগঞ্জ সুমিলপাড়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। এর আগে এই শাকিলগংকে নিয়ে বিভিন্ন দৈনিকে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এছাড়াও গত বছরও তার বাহিনী নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হবার পরও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। প্রশাসনের এই উদাসীনতার কারণে আজ নাসিক ৬নং ওয়ার্ড রক্তাক্ত। পত্রিকায় আবারো সমালোচিত হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ।
এলাকাবাসী জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ সুমিলপাড়া আইলপাড়া এলাকার মোফাজ্জল মুন্সীর ছেলে শাকিল কশোরগ্যাং তৈরী করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। আদমজী ইপিজেডে ব্যবসায়ীদের হুমকী, এলাকায় মারামারি, দখলবাজী, মাদক ব্যবসাসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঈদের পর দিনের সংঘর্ষের কয়েকদিন আগে সুমিলপাড়া মুড়ি ফ্যাক্টরী এলাকার সুরিয়া খাতুনের ছোট বোন সাইমা আক্তার মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় সাইমা আক্তারকে মারধর ও বাসার দরজা-জানালা ভাংচুর করে শাকিলগং। এই ঘটনায় সাইমা আক্তারের বড় বোন সুরিয়া খাতুন কিশোরগ্যাং লিডারসহ গাজী, নুরা, আবুলকে আসামী করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।
অভিযোগ রয়েছে, গত বছর থার্টি ফাস্ট নাইটে শাকিলের নেতৃত্বে একই এলাকার যুবলীগ নেতা পানি আকতারের লোকজনদের মধ্যে মারামারি হয়। এই মারামারির জের ধরে গত ৫ জানুয়ারী কিশোরগ্যাং লিডার শাকিল তার বাহিনী নিয়ে স্বপন মিয়ার ছেলে হৃদয়ের বাড়ীতে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় মহিলাদেরও শ্লীলতাহানী ঘটায়। শাকিল বাহিনীর হামলায় হৃদয়ের হাত পা ভেঙ্গে যায়। তাতে চিকিৎসার জন্য প্রথমে নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে। এই ঘটনায় শাকিলকে প্রধান আসামী করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হৃদয়ের মা মনি আক্তার মামলা দায়ের করেন। মামলায় এলাকার দাগী ও চিহ্নিত অপরাধিদের আসামী করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাকিল এলাকায় বেয়াদপ বলে পরিচিত। সে কাউকে মান্য করে না। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে এলাকায় লাইমলাইটে আসতে চায়। ইতিমধ্যে তার বাহিনী আদমজী ইপিজেডের ভিতর আতংক সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ীদের প্রকাশে হুমকী প্রদানের কারনে ব্যবসায়ীরাও তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। কিশোরগ্যাং নিয়ে বিভিন্ন সেক্টর দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে শাকিলগং। তার বাহিনীর বিরুদ্ধে রয়েছে মাদকের অভিযোগ। তার চোরাই ফার্নেশ তেলের ব্যবসা রয়েছে। এই ব্যবসার আড়ালে শাকিল মাদক ব্যবসা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই শাকিল বাহিনী এলাকার মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এলাকাবাসী পুলিশ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বা ব্যবহার করা  সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.narayanganjtimes.com কর্তৃক সংরক্ষিত।
Customized By NewsSmart