1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

সিদ্ধিরগঞ্জে সংঘাতময় ৬নং ওয়ার্ড, দায় কার ?

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০
  • ২৮২

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ৬নং ওয়ার্ডে আধিপত্য নিয়ে বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি ও সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে কয়েক বছর ধরে। এই সময়ে তাদের সমর্থকদের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘাত-সংঘর্ষ হয়েছে। একে অপরকে দোষী করে পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়েছে বেশ। কেই কাউকে ছাড়া দিতে নারাজ। এর ধারাবাহিকতায় ২ আগস্ট রাতে সিগারেট ধরানোকে কেন্দ্র করে সুমিলপাড়া আইলপাড়া এলাকায় মতি ও সিরাজের সমর্থক দুই গ্রæপ সংঘাতে জড়ায়। মতির সমর্থক পানি আকতার ও সিরাজের সমর্থক শাকিল। এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে ওইদিন রাতেই মতির তার কার্যালয়ে মিমাংশায় বসে। কিন্তু মিমাংশা চলাকালীন রাত ১০টায় পুনরায় দুই গ্রæপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অনন্ত ২০ জন আহত হয়। এসময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আইনশৃংখলাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এসময় পুলিশ সিরাজ মন্ডলের ভাই জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মজিবুর রহমান মন্ডলসহ ৬জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় সিরাজ মন্ডলের সমর্থক আইনুল হকের মেয়ে ইয়াসমিন মতিউর রহমান মতিকে প্রধান আসামী করে ২৩ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। আবার মতির সমর্থক লিটন বাদী হয়ে সিরাজ মন্ডলকে প্রধান আসামী করে ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫জনকে আসামী করে পাল্টা অভিযোগ দেয়। দুটি অভিযোগ নিয়ে বেকায়দায় পড়ে পুলিশ। কারণ উভয় পক্ষই ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। এরমধ্যে মতি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি ও সিরাজ মন্ডল জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি। দুই পক্ষের অভিযোগ যাতে মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ হয় সেই জন্য দুই দিক থেকেই নানাভাবে তদবির চলে। কিন্তু পুলিশ কারো অভিযোগ আমলে না নিয়ে সোমবার সারাদিন পর রাতে পুলিশ বাদী হয়ে উভয় পক্ষের ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামী করে বিস্ফোরক, পুলিশী কাজে বাধাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করে। এই মামলায় আটক ৬জনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এবং মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের এই মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে মতি ও সিরাজ মন্ডলের বাহিনীর সদস্যরা গা-ঢাকা দেয়। এই যখন অবস্থা তখন হঠাৎ করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উভয় পত্রের অভিযোগ মামলা হিসেবে নেয়ার জন্য তৎপরতা শুরু হয়। নানা দেনদরবার শেষে বুধবার সকালে দুই পক্ষের অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করে পুলিশ। এতে মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩। বর্তমানে তিন মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে পুরুষ শূন্য ৬নং ওয়ার্ড।
এদিকে তুচ্ছ ঘটনায় ৩টি মামলা দায়ের নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। তাদের মতে, এরজন্য দায়ী কে? একদিনেই তো আর ৬নং ওয়ার্ডে এমন সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরী হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে মতি ও সিরাজ মন্ডলের মধ্যে চলে আসা এই দ্ব›দ্ব সংঘাত লুকোচুরি কিছু নয়। যা হয়েছে প্রকাশ্যেই। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ চুপ কেন? নাকি তারা এই দুইজনের মধ্যে সংঘাতের বাতাস দিয়ে নিজেরা ফায়দা লুটার মিশনে রয়েছেন। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানও তো চুপ। তিনি তো আগাগোড়া সবই জানেন। তিনি তো একটা ধমক দিলেই দুই-পক্ষ চুপ হয়ে যেত। কিন্তু দিচ্ছেন না কেন? সেটাও রহস্যজনক। তবে ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ কর্মীরা বলছেন, যে যাই করুক, ক্ষতি গ্রস্থ আওয়ামীলীগই হবে। আর মাঝ থেকে দুই পক্ষের বিরোধের সুযোগে বিএনপি জামাতের লোকজন সুবিধা ভোগ করবে।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2018narayanganjtimes
Customized By NewsSmart