1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন

সিদ্ধিরগঞ্জে মতি-সিরাজকে ঘিরে খেলছেন যারা

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৭৫

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জে ৬নং ওয়ার্ড। গত ৪ বছর অসংখ্যবার গণমাধ্যমে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে এই ওয়ার্ডটি। কিন্তু সেটা পজেটিভভাবে নয়। নেভেটিভ। আর সেটা হলো এলাকার আধিপত্য নিয়ে সংঘাত, সংঘর্ষ, হামলা, মামলা। বর্তমান কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতি ও এই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের মধ্যে দ্বন্দ্ব ঘিরেই এসব ঘটেছে। সবশেষ ২ আগস্ট রাতে দুই গ্রুপের সমর্থকদের সংঘর্ষের পর পৃথক তিন মামলার পর দুই নেতা এলাকা ছাড়া। পুলিশ তাদের খুঁজছে। সঙ্গে চেলা-চামুন্ডারাও পালিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে একবারে ভিন্ন এক চিত্র দেখা যাচ্ছে ৬নং ওয়ার্ডে। আগের মতো কোন তৎপরতা নেই নেতাকর্মীদের। সন্ধ্যার পর সুনসান নিরবতা। গ্রেপ্তার এড়াতে দুই বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলের সমর্থকরাও গা ঢাকা দিয়েছে। কারণ পুলিশ বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাত আসামী রয়েছে ২০০ শেতে আড়াইশত। ফলে কে কখন গ্রেপ্তার হয়ে যায় এই ভয়ে এলাকা ছাড়া তারাও।
কিন্তু এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে বা কারা। এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এই ওয়ার্ডের সাধারণ ও সচেতন মানুষ। তাদের সাথে কথা বলে একটি চিত্র পাওয়া গেছে।
তা হলো ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সিরাজুল ইসলাম মন্ডল ছিলেন এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কাউন্সিলরের মধ্যে সিরাজ মন্ডল একজন। এলাকায় সিরাজ মন্ডল উন্নয়নও করেছেন চোখে লাগার মতো। তিনি তার মতো করে ওয়ার্ড পরিচালনা করেছেন। মতিউর রহমান মতি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের অন্যতম ঘনিষ্ট লোক হওয়ার পরও বড় ধরনের কোন সমস্যা বা কাজ করতে ঝামেলায় পড়তে হয়নি সিরাজ মন্ডলকে। বরং মতি সহযোগিতা করেছেন ওয়ার্ডের উন্নয়ন কাজে। এই সময়ে সিরাজ মন্ডলের রাজনৈতিক কোন পরিচয় ছিল না। আর মতিউর রহমান সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি। এক পর্যায়ে ২০১৬ সালের নির্বাচনে মতিউর রহমান মতি এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ভালোই চলছিল ওয়ার্ডের কার্যক্রম। উজ্জীবিত হয়ে উঠে ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমথর্করা। মতিউর রহমান মতি এমপি শামীম ওসমানের একনিষ্ট লোক হওয়ার কারণে শামীম ওসমান বলয়ের সকল লোকজন মতির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়। ফলে শামীম ওসমানের যে কোন কর্মসূচিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক নিয়ে মতি যোগদান করে। সিদ্ধিরগঞ্জেও আওয়ামীলীগের কোন অনুষ্ঠান হলে সেখানে মতির মিছিল না গেলে কর্মসুচি প্রাণ পায় না। কিন্তু এটা আবার আওয়ামীলীগের কোন কোন শীর্ষ নেতার ভালো লাগতো না।থাকার কারণে সে অনেকের চক্ষুশুল হয়। মতিকে দমানোর মিশনে পর্দার আড়ালে সক্রীয় হয় আওয়ামীলীগের একাধিক শীর্ষ নেতা।
এদিকে আকস্মিকভাবে সিরাজ মন্ডল বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের জেলা কমিটির সভাপতি পদ বাগিয়ে নেন। যদিও আওয়ামীলীগের সক্রীয় রাজনীতিতে তাকে অতীতে দেখা যায়নি। দলের কোন কমিটিতে তার সদস্য পদও ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করে এক লাফে কিভাবে সে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতির পদ বাগিয়ে নিলো এ নিয়ে নানা কথা চালু রয়েছে দলের নেতোকর্মীদের মধ্যে। এই পদ পাওয়ার পর এমপি শামীম ওসমানের দিকে ভিড়ার মিশন শুরু করে সিরাজুল ইসলাম মন্ডল। এদিকে তার বড় ভাই মজিবুর রহমান মন্ডল নাসিক মেয়র আইভীর অনুসারী হওয়ার সুবাদে এবং আইভীর কোঠায় জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ পেয়ে যায়। যদিও মজিবুর রহমান মন্ডলকে গত ১০ বছর ধরে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রীয় দেখা যায়নি। মজার বিষয় হলো এক ভাই নাসিক মেয়র আইভীর দিকে আরেক ভাই শামীম ওসমানের দিকে। যদিও এর নেপথ্যে মজিবুর রহমান মন্ডলের পরামর্শ। কারণ একজন নাসিক মেয়র আইভীর সাথে আরেক শামীম ওসমানের সাথে থাকলে দুইদিক থেকেই সুবিধা পাওয়া যাবে।
এদিকে সিরাজ মন্ডল শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জের সারোয়ার পরিবারের শরণাপন্ন হয়। ওই পরিবারের মেঝ ছেলে মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলালের সাথে মিশে যায়। এক পর্যায়ে হেলাল, তার ছোট ভাই মহানগর যুবলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসে সাজনু, তাদের ভাগ্নে মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন সরাসরি শেল্টার দেয় সিরাজ মন্ডলকে। তারা বেশ কয়েকবার সিরাজ মন্ডলের অনুষ্ঠান ও বাড়িতে গিয়েছে। বিনিময়ে ব্যাপক আর্থিক সুবিধা নিয়েছে সিরাজ মন্ডলের কাছ থেকে। এমনকি জাকিরুল আলম হেলালকে স্বর্ণের নৌকা (কার্ট পিন) উপহার দেয় সিরাজ মন্ডল। জাকিরুল আলম হেলাল গং তাদের নিজস্ব বলয় তৈরী করার জন্য সিরাজ মন্ডলকে শক্তি যোগায়।
অন্যদিকে পরোক্ষভাবে নাসিক মেয়র আইভীর সমর্থন। এতগুলো মানুষের সাপোর্টে দিন দিন বেপোয়ারা হয়ে উঠে সিরাজ মন্ডল। গড়ে তোলে একটি বাহিনী। তেল চোর, মাদক ব্যবসায়ি, উঠতি বসয়ের সন্ত্রাসী, চোর ছেচড়ারাদের তার দলে ভেড়ায়। শুধু তাই নয়, এসও রোড এলাকার বিএনপির পুরো গ্রুপ ভর করে সিরাজ মন্ডলের কাঁধে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শ্রমিক দলের সভাপতি আসলাম, তার ভাই স্বপন মন্ডলসহ অনেকেই। এসব লোকের কারণে অনেকটাই শক্তিশালী হয়ে উঠে সিরাজ মন্ডল। ধীরে ধীরে তার শেল্টারদাতাদের সাপোটের কারণে এমপি শামীম ওসমানের ঘাঁটি ধংস করার পরিকল্পনা নেয় সিরাজ মন্ডল গং। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আদমজীর নতুন বাজারে মতির উপর আকষ্মিকভাবে হামলা করা হয়। এতে মতি রক্তাক্ত হয়। এই হামলার পর এক বাক্যে সবাই বলে উঠেন, এই হামলা মতির উপর করা হয়নি, এমপি শামীম ওসমানের উপর করা হয়েছে। কারণ মতি শামীম ওসমানের অন্যতম কর্মী। তার উপর হামলা মানে শামীম ওসমানের উপর হামলা। কিন্তু ঘটনার পর এমপি শামীম ওসমান মতিকে ধৈয্য এবং শান্ত থাকার জন্য বলে। মতি শান্ত থাকে। সেদিন যদি এমপি শামীম ওসমান মতিকে শান্ত না করতো তাহলে ৬নং ওয়ার্ড ওইদিনই পরিস্কার হয়ে যেতো। সিরাজ মন্ডল তো দুরের কথা বিএনপির চেলাচামুন্ডারাও থাকতে পারতো না এলাকায়। এ কথা এলাকাবাসী এখনো বলছে।
কিন্তু রক্তাক্ত হয়েও এমপির কথায় শান্ত থাকে মতি। কিন্তু তার এই শান্ত থাকাটাকে র্দুবলতা হিসেবে নেয় তার প্রতিপক্ষ। মতি যদি কোন মাদক ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে এ্যাকশন নিতে যায় তাকে কাছে টানে সিরাজ মন্ডল। এভাবে দিন দিন সিরাজ মন্ডলের বাহিনী শক্তিশালী হতে থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো-সিরাজ মন্ডল কি আওয়ামীলীগের লোক? আওয়ামীলীগের হাইকমান্ড তো ঘোষনাই দিয়েছেন ২০০৯ সালের পর যারা আওয়ামীলীগ বা সহযোগি সংগঠনে প্রবেশ করেছে তারা অনুপ্রবেশকারী। তাহলে সিরাজ মন্ডল তো ২০১৬ সালে আওয়ামলীগে আসছে। সে তো দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারী। তাছাড়া সে মুলত এমপি শামীম ওসমানে কাছে ভিড়েছে বিএনপির লোকদের নিরাপদে রাখতে। আর মতির উপর হামলা হলেই বিএনপির লোকজন সিরাজ মন্ডলের পক্ষে নামে। মজার বিষয় হলো বেশীর ভাগ সংঘাত ও হামলার ঘটনা ঘটে রাতে। যাতে করে সিরাজ মন্ডলের সাথে থাকা বিএনপির লোকদের চিহ্নিত করা না যায়।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলছে, সিরাজ মন্ডলকে পূজি করে যারা নতুন খেলায় নেমেছেন তাদের এখনই রুখতে হবে। না হলে ক্ষতি যা হবার আওয়ামীলীগের তথা এমপি শামীম ওসমানের হবে। সিরাজ মন্ডলদের কিছু হবে না। কারণ পর্দার আড়ালে তাদেরকে শেল্টার ও সেভ করার লোকের অভাব নেই।
স্থানীয় আওয়ামীলীগের একাধিক সূত্র জানায়, আদমজী ইপিজেডের নিয়ন্ত্রন নেয়ার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান টাকা পেলে কখনো মতির পক্ষে আর টাকা না পেলে উল্টো সুর দেয়। আর সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া সরাসরি সিরাজ মন্ডলের পক্ষে। ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলী হোসেন আদমজী ইপিজেডে তার বেশ কয়েকটি ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সিরাজ মন্ডলের সাথে রয়েছে। এছাড়া নাসিক মেয়র আইভীর সকল লোকজন সিরাজ মন্ডলকে সাপোর্ট দিচ্ছে। ফলে মতি অনেকটা একা। এমপি শামীম ওসমান ছাড়া তার কেউ নাই। শামীম ওসমানই তার সবকিছু। অনেক নেতা পর্দার আড়ালে কারো কারো সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চললেও মতি একমাত্র শামীমলীগ করে। তাই মতির ক্ষতি হওয়া মানে এমপি শামীম ওসমানের ক্ষতি। এমনটাই মনে করছেন ৬নং ওয়ার্ড তথা সিদ্ধিরগঞ্জে শামীম ওসমানের একনিষ্ট সমর্থিত নেতাকর্মীরা ও সমর্থকরা। তারা বলেছেন, আজকে দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারীদের কারণে দলের পরিক্ষিত ও এক নিষ্ট কর্মী মতি এলাকা ছাড়া। এটা অত্যন্ত দু:খজনক। তাই পুরো বিষয়টি মাননীয় এমপি শামীম ওসমান ভেবে দেখবেন বলে আশা করছেন আওয়ামীলীগের ত্যাগি নেতাকর্মীরা।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2018narayanganjtimes
Customized By NewsSmart