1. admin@narayanganjtimes.com : ntimes :
  2. ahmedshawon75@gmail.com : ahmed shawon : ahmed shawon
শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:২৭ অপরাহ্ন

বন্দরে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু, ভিন্ন খেলায় মামলার বাদী

নারায়ণগঞ্জ টাইমস :
  • মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০
  • ১০৭৭

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে কিশোরগ্যাংয়ের দু’পক্ষের সংঘর্ষে একপক্ষের ধাওয়ায় অপর পক্ষের ২ শিক্ষার্থী আত্মরক্ষার্থে শীতলক্ষ্যায় নদীতে লাফিয়ে পড়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ আগস্ট) মধ্যরাতে লাশ উদ্ধারের পরেই ওই ৬ জনকে নিহতদের স্বজনদের সহায়তায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে নিহত জিসান আহমেদের বাবা কাজিম আহমেদ বাদি হয়ে বন্দর থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৭ জনকে আসামী করে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে এই মামলায় একাধিক আসামি রয়েছেন যারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন তাদের স্বজনরা। ব্যক্তিগত পূর্ব শত্রুতার জেরে হয়রানির উদ্দেশ্যে একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠালে শুনানী শেষে ম্যাজিস্ট্রেট ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেপ্তারকৃত ৬ জন হলো, নদীতে লাফিয়ে পড়ে নিহত জিসানের চাচা আহমদ আলী (৬২) ও মোক্তার হোসেন (৫৫), আহমদ আলীর ছেলে কাশেম (২২), নিহত মিহাদের খালাতো ভাই আলভী (২০), আনোয়ার হোসেন (৪৫) ও শিপলু (২৩)। গত সোমবার বিকেলে বন্দরের ইস্পাহানী ঘাট এলাকায় শামীম ও শাকিল নামে দুই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় একপক্ষের ধাওয়ায় মিহাদ ও জিসান আত্মরক্ষার্থে শীতলক্ষ্যা নদীতে লাফিয়ে পড়ে। কিন্তু রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে প্রতিপক্ষ কিশোর গ্যাংয়ের ধাওয়ায় মিহাদ ও জিসান নদীতে লাফিয়ে পড়ে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা ভেবেছিল তারা সাঁতরে নদীর অপর প্রান্তে উঠে গেছে। পরে সোমবার রাত পৌনে ১২টায় বন্দর ঘাট এলাকা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। নিহত মিহাদ কদমরসুল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর মানবিক বিভাগের ছাত্র। আর জিসান বন্দরের বিএম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় মিহাদ ও জিসান নদীতে লাফিয়ে পড়ে নিহত হলেও জিসানের বাবা কাজিমের দায়ের করা মামলায় আসামী করা হয়েছে কাজিমের দুই চাচাতো ভাই, এক ভাতিজাকে। এদের সঙ্গে জমিসহ নানা বিষয়ে নিহত জিসানের বাবা কাজিমের দ্ব›দ্ব ছিল। শত্রুতা উদ্ধার করতে কাজিম প্রকৃত অপরাধীদের পরিবর্তে নিজের চাচাতো ভাইদের শায়েস্তা করতে মামলার আসামী করে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে। শুধু তাই নয় মিহাদ ও জিসানের লাশ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই ছিলেন জিসানের চাচা আহমদ আলী ও মোক্তার হোসেন এবং চাচাতো ভাই কাশেম। আর গ্রেপ্তার আলভী হচ্ছে নিহত মিহাদের খালাতো ভাই। সোমবার বিকেলে আলভীই মিহাদকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়।
বন্দর থানার ওসি ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশ প্রকৃত ঘটনা জানতে আসামীদের ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। বাদির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এজাহারনামীয় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নদী থেকে লাশ উদ্ধারের পর নিহতদের গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ময়নাতদন্তর রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ছেলের লাশ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ বাদির বিরুদ্ধে
গত সোমবার কিশোরগ্যাংয়ের দুই গ্রুপের বিরোধে একপক্ষের ধাওয়ায় আত্মরক্ষার্তে নদীতে লাফিয়ে পড়ে মিহাদ ও জিসান। কিন্তু জিসানের বাবা কিশোরগ্যাংয়ের কারও নাম উল্লেখ না করে নিজের স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারও করে। মঙ্গলবার সরেজমিনে বন্দরে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, জমিসহ নানা বিষয় নিয়ে জিসানের বাবা কাজিমের সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত আহমদ আলী, মোক্তার হোসেনের বিরোধ ছিল। স্থানীয় ভাবে কাজিম বদ প্রকৃতির হিসেবে পরিচিত। গত ৩ মাস আগেও গ্রামের একটি শালিসে কাজিমকে তার বিভিন্ন অপকর্মের জন্য শালিসকারীরা সর্তক করে ৩০০ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেয়। এ নিয়ে কাজিম তার চাচাতো ভাই আহমদ আলী ও মোক্তার হোসেনের উপর ক্ষুব্ধ ছিল। সোমবার ঘটনায় নিজের ছেলে নিহত হলে পূর্বের ক্ষোভ মেটাতে তাই নিজের চাচাতো ভাই ও ভাতিজাকে আমাসী করেছে বলে স্থানীয়রা জানায়। তাছাড়া ১/১১’র সামরিক সরকারের সময় কাজিমকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করেছিল সেনাবাহিনী। ওই মামলায় কাজিমের ৩ বছর জেল হয়। স্থানীয় ভাবে কাজিম বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
এদিকে নিহত মিহাদের চাচা বন্দর প্রেস ক্লাবে সভাপতি কমল খান বলেন, নিহত জিসান কাজিম আহমেদের একমাত্র ছেলে ছিল। তাই তার অনুরোধে মিহাদের বাবা নাজিম উদ্দিন খানের পরিবর্তে কাজিমকে মামলার বাদি হতে সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি যখন এ ঘটনায় তার স্বজনদের আসামী করে এজাহার দিচ্ছিলেন তখন তাকে ভেবে চিন্তে এজাহার দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু কাজিমের দাবি তার চাচাতো ভাইয়েরাই তার ছেলেকে হত্যা করেছে।
এদিকে ঘটনাস্থল বন্দরের ইস্পাহানী এলাকায় গিয়ে বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোমবার বিকেলে দুই গ্রুপ কিশোরের মধ্যে কিছু নিয়ে ঝামেলা হলে একপক্ষ অপর পক্ষকে ধাওয়া দেয়। তখন ধাওয়া খেয়ে কয়েকজন কিশোর নদীতে লাফিয়ে পড়ে। তাদের ধারণা ছিল লাফিয়ে পড়া কিশোররা সবাই তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে। পরে রাতে জানতে পারেন দুই কিশোর নিখোঁজ। তাদের লাশ সোমবার রাত পৌনে ১২টায় উদ্ধার করা হয়েছে।

নিউজটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2018narayanganjtimes
Customized By NewsSmart